সংবাদ শিরোনাম
মহিলাকে রাম দা দেভিয়ে ফেঁসে গেলেন যুবলীগ নেতা! | মেয়ের বাড়িতে মিলিত হতে গিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ল যুবক! | ঘরের দরজা খুলে গৃহবধূর মুখ চিপে চারজন মিলে পালাক্রমে গনধর্ষণ! | ১০ বছরের শিশুকে সুপারি বাগানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা চালাল রিক্সা চালক! | গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে অশ্লীল নৃত্য ও মদের আসরের প্রতিবাদ করায় প্রবাসীকে পিটিয়ে হত্যা! | ভারতের কাছে পাকিস্তানের লজ্জার হার! | আমেরিকার ঘুম হারাম করতে অবাক করা খবর দিলেন এরদোগান! | জাদুর খেলা দেখাতে গিয়ে মাঝনদীতে ‘ভ্যানিস’ জাদুকর! | মুক্তিযুদ্ধে চেতনা ও দক্ষতা বিবেচনায় পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর | রাজবাড়ীতে ইউপি চেয়ারম্যান কালাম মৃধাকে কুপিয়ে যখম |
  • আজ ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বন্ধুর মেয়েকে তিনবছর ধরে ধর্ষণ!

৪:২৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০১৯ রংপুর

ফয়সাল শামীম, ষ্টাফ রিপোর্টার: কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে বন্ধুর মেয়ে অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থীকে নিজের লালসার শিকার বানিয়েছে আরেক বন্ধু।  মেয়েটি জানিয়েছে যখন সে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তখন বাবার ওই বন্ধু তার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে প্রথম ধর্ষণ করে।

পরে তিন বছর যাবৎ অসংখ্যবার তাকে মিলনে বাধ্য করেছে সে।

বুধবার সকাল ৯টায় মিলনরত অবস্থায় আটকিয়ে ঘটনাটি জনসম্মুখে নিয়ে আসে ওই ধর্ষকেরই স্ত্রী। এদিকে ধর্ষক প্রভাবাশালী হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে একটি মহল।

ঘটনাটি ঘটেছে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের পূর্বকেদার গ্রামে। ওই গ্রামের কুদ্দুস প্রধানীর ছেলে দুই সন্তানের জনক মকবুল হোসেন প্রধানী(৪৫)তিন বছর থেকে নিজের লালসার শিকার বানিয়েছে একই গ্রামের বন্ধু সকিয়ত মিয়ার মেয়ে এবং কাশেম বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী কুসুম (ছদ্দ নাম) (১৪) কে। কুসুম (ছদ্দ নাম) জানায়, বাবার বন্ধু হওয়ায় মকবুল তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতো এবং প্রতিবেশী হওয়ায় কুসুমও (ছদ্দ নাম) মকবুলের বাড়িতে যাতায়াত করত।

যাতায়াত সূত্রে মকবুলের স্ত্রী মুক্তার সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। সে আরোও জানায়, ব্যাপারীটারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় মকবুল এবং তার স্ত্রী মুক্তা বেগমের সাথে নাগেশ্বরী উপজেলার শাপখাওয়া গ্রামে তার (মুক্তার) বাপের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে একটি ঘরে মকবুল এবং কুসুমকে (ছদ্দ নাম) রেখে মকবুলের স্ত্রী মুক্তা বাইরে থেকে ঘরের দরজা আটকিয়ে দিয়ে চলে যায়। সেখানেই মকবুল তাকে জোড় করে ধর্ষণ করে। পরে কান্নাকাটি করলে মকবুল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেয় এবং পরে কুড়িগ্রাম নিয়ে গিয়ে তাকে মৌখিক বিয়ে করে। সেই থেকে তিন বছরে যখন তখন তাকে ডেকে মিলনে বাধ্য করতো মকবুল।

বুধবার সকালে তার বাড়ির মোবাইল নাম্বারে ফোন দিয়ে পার্শবর্তি ভ্যান চালক শামছুলের বাড়িতে ডেকে নিয়ে মিলনে বাধ্য করে মকবুল। এদিকে মকবুলের স্ত্রী মুক্তা এসে তাদেরকে হাতে নাতে আটক করে তাকে মারধোর করতে থাকে। পরে একই এলাকার আনছার আলীর ছেলে মিন্টুসহ কয়েকজন গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে। এসময় মকবুল পালিয়ে যায়।

এদিকে মেয়ের এমন কান্ডে লোকলজ্জায় বাড়িতে ঠাই দেয় নাই পিতা মাতা। পরে গ্রামবাসী স্থানীয় জুরান আলীর বাড়িতে নিয়ে আসে কুসুমকে (ছদ্দ নাম)। সেখান থেকে ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম হায়দার জানান, মেয়েটির বাবা মেয়েটিকে বাড়িতে তোলেননি তাই স্থানীয় ইউপি সদস্যর জিম্মায় তার বাড়িতে রাখা হয়েছে।

ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা চালাচ্ছি দেখি শেষ পর্যন্ত কি করা যায়।

কচাকাটা থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে সবার সাথে কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।