• আজ ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ফেনীর সেই বৃদ্ধ ভিক্ষুক পারিবারিকভাবেও নির্যাতিত!

১০:২৩ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, জুন ১৫, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

আব্দুল্লাহ রিয়েল, ফেনী প্রতিনিধি: কঙ্কাল সদৃশ্য বৃদ্ধ ভিক্ষুক লাতু মিয়ার বয়স প্রায় ৯০। তিনি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতি ইউনিয়নের মৃত আলি আজ্জমের ছেলে।

তিন ছেলের বাবা হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে দুবেলা-দুমুঠো ভাতের যোগান দিতে বাধ্য হয়ে ভিক্ষা বৃত্তিকে বেছে নিয়েছেন লাতু মিয়া। সারাদিন ফেনী শহরের একরাম চত্তরের আশেপাশের এক দোকান থেকে অন্য দোকানে মানুষের কাছে হাত পেতে টাকা সংগ্রহ করেন, আর রাত কাটে তার মধুমেলা দোকানের সামনে।

ফেনীতে লাতু মিয়ার আপনজন বলতে কেউ নেই। তাই দুবেলা-দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য এ বয়সেও তিনি মানুষের কাছ থেকে দু’এক টাকা ভিক্ষা করে ১৭ হাজার টাকা জমিয়ে স্থানীয় এক দোকান মালিকের কাছে রেখে দেন। আর সঞ্চিত টাকা বাড়িতে পাঠানোর উদ্দেশ্য ওই দিন নিজ হেফাজতে নিয়েছিলেন বৃদ্ধ।

জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গত ১১ জুন মঙ্গলবার সারাদিন ভিক্ষা করে রাতে ক্লান্ত শরীরে বিশ্রাম দিতে ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এমন সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে অজ্ঞাত দুইজন মোটর সাইকেল আরোহী লাতু মিয়ার কাছে গিয়ে ‘টাইগার ড্রিংকস’ খেতে দেয়। কিন্তু বৃদ্ধ লাতু মিয়া টাইগার খেতে অনিহা দেখালে ছিনতাইকারীদের একজন তাকে মারধর করেন এবং এসময় অপর ছিনতাইকারী তার ব্যাগে সেই ১৭ হাজার ও খুচরা আরো প্রায় ৩ হাজারসহ মোট ২০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

জানা গেছে, বৃদ্ধ লাতু মিয়া শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ। নিজের ভিক্ষার টাকা দিয়েই চলে তার চিকিৎসা। ফেনী শহরে দিনের পর দিন ভিক্ষাবৃত্তি করলেও খুব একটা গ্রামে যান না এই বৃদ্ধ, কারণ বাড়ি গেলেও তাকে সইতে হয় অনেক নির্যাতন। তার স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের বউসহ তাকে মারধর করেন। অথচ এই বৃদ্ধ বয়সে সারাদিন ভিক্ষে করে যে টাকা রোজগার করেন সে টাকার বেশিরভাগ অংশই ছোট ছেলের মাধ্যমে বাড়িতে পাঠান।

বৃদ্ধ ভিক্ষুক লাতু মিয়া সময়ের কন্ঠস্বরের কাছে অভিযোগ করেন, ‘গ্রামে আমার সবাই থাকলেও বাড়িতে যেতে ইচ্ছে করেনা, বাড়িতে গেলেই আমাকে শুধু শুধু মারে ৩ ছেলে। এই বৃদ্ধ বয়সে পরিবার থেকে ছেলেদের থেকে কোন রকম শান্তি পাইনি। সারাজীবনই আমাকে তারা শোষন করে গেলো, নির্যাতন করলো।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় বৃদ্ধ লাতু নোয়াখালীর ভাষায় বলেন, ‘হোলারা আরে খাইল্লা মারে।,’

নিজ বাড়িতে ঘর করে দিলে সেখানে তিনি থাকবেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে বৃদ্ধ বলেন, ‘ঘর দুয়ার আর আছে, হোলারা আরে খাইল্লা মারে।’

আপনার ছেলেরা আর মারবেনা আমরা সেই দায়িত্ব নিবো বৃদ্ধকে এমন আশ্বাস দিলে তিনি বলেন, ‘হাইত্তেন নো চোদ্দগ্রাম থানাও হারেনো। আমনেগো এক্কান কার্ড দেন বাড়ি যাইতে দেরি আছে। যে সমে যামু আল্লাহ যদি বাঁচায় আমনেরগোরে ফোন দিমু। আমনেরা আইয়েন।’

আরও পড়ুন-

ফেনীর সেই বৃদ্ধ ভিক্ষুককে ২০ হাজার টাকা দিলেন ইতালি প্রবাসী রাসেল