বিদ্যালয়ে দেহ ব্যবসা, শুনে প্রধান শিক্ষক অজ্ঞান!

১:৩০ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুন ১৬, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, নড়াইল- নড়াইল সদর উপজেলার নাকশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাতে বিদ্যালয়ের ভবনের কক্ষে দেহ ব্যবসার অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার (১৫ জুন) বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ওই নৈশপ্রহরীসহ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। এ সময় সঙ্গে এলাকাবাসীর নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পরেন প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার নাগ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের রাতের বেলা স্কুলে এনে এলাকার লোকদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে দেহ ব্যবসা চালাতো নৈশ প্রহরী লতিফ সিকদার। সে একেকদিন একেকজন নারী নিয়ে আসে আর প্রভাবশালীরা এসে তাকে টাকা দিয়ে যায়। এখানে যারা আসে তারা প্রভাবশালী বলে ভয়ে আমরা কিছু বলতে পারিনি।’

বুধবার রাতে এলাকাবাসী নৈশ প্রহরী লতিফসহ কয়েকজনকে হাতে-নাতে ধরে স্কুলের গেট আটকে দেয়। পরে প্রভাবশালী কিছু লোকের উপস্থিতিতে ছাড়া পায় ঐ নৈশ প্রহরী। এ ঘটনার পরদিনই স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্কুল বন্ধকালীন সময়ে ১৩ জুন ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি সভা দেখিয়ে ঐ দপ্তরীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

নাকশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার নাগ বলেন, ‘বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে খবর পেয়ে ভোরে স্কুলে ছুটে আসি। এ সময় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ সিকদার, মফিজুর রহমান সিকদার, সুলতান আহমেদ, শরিফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। নৈশ প্রহরী লতিফ তাদের কাছে ছিলো। আমি সে সময়ই তাকে পুলিশে দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি।’

“পুলিশের হাতে তুলে দিতে না পেরে পরে সভাপতির জিম্মায় দিয়ে চলে আসি। শনিবারে স্কুল খুললে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ছিলো। এ সময় এলাকার কিছু লোকজনের বাকবিতণ্ডার কারণে প্রধান শিক্ষক উচ্চ রক্ত চাপের কারণে অচেতন হয়ে পড়লে আমাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।” যোগ করেন প্রধান শিক্ষক।

অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশপ্রহরী লতিফ সিকদার নিজের দোষ অস্বীকার করে বলেন, ওই দিন আমি বিদ্যালয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা আমি জানি না।

এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নড়াইল সদর থানা পুলিশের এসআই রজত বলেন, ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরির অপকর্মের অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় কয়েকজন জড়িত। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।