• আজ ৭ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পরোয়ানার ২০ দিন পর যেভাবে ধরা পড়লেন ওসি মোয়াজ্জেম

৫:৫৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুন ১৬, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরোয়ানাভুক্ত আসামি ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতারের পর শাহবাগ থানায় রাখা হয়েছে।

পরোয়ানার ২০ দিন পর রোববার দুপুরে তাকে শাহবাগ থানাধীন হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে ওসি মোয়াজ্জেমকে কী অবস্থায়, কীভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে- তা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তিনি এতদিন কোথায় আত্মগোপনে ছিলেন সে বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

তবে গোয়েন্দা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জামিনের জন্য হাইকোর্টে এসে পুলিশের কাছে ধরা পড়েছেন মোয়াজ্জেম।

ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারের পর শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা শাহবাগ থানা এলাকা থেকে পুলিশ পরিদর্শক মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করেছি। তাকে শাহবাগ থানায় রাখা হয়েছে।’

মোয়াজ্জেমের গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘তাকে বর্তমানে শাহবাগ থানায় রাখা হয়েছে।’ তবে সাংবাদিকদের শাহবাগ থানায় ঢুকতে দেয়নি পুলিশ।

ঠিক কোন জায়গা থেকে মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটি সুনির্দিষ্টভাবে বলেননি ডিসি। তবে শাহবাগ থানা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, হাইকোর্টের সামনে থেকে বিকেল ৩টার দিকে গ্রেফতার করা হয় মোয়াজ্জেমকে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও পুলিশ পরিদর্শক মোয়াজ্জেম হোসেনের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেও একই তথ্য পাওয়া গেছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ফোন নম্বর ট্র্যাকিং মোয়াজ্জেমের ফোনে অবস্থান নির্ণয় করা গেলেও গ্রেফতার এড়াতে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন তিনি। নিজের ফোনটি অন্যের কাছে দিয়ে রেখেছিলেন। তবে তাতে দমে যাননি গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা। ওসি মোয়াজ্জেমের সঙ্গে যত জনের কথা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের ফোন নম্বর ট্র্যাকিং করে তার অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। একইসঙ্গে ডিবির এই তৎপরতার কারণে মোয়াজ্জেমও স্থান থেকে স্থানে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হন। একইসঙ্গে ডিবি কর্মকর্তারা মোয়াজ্জেমের স্বজনদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। মোয়াজ্জেমের স্ত্রী, শ্বশুরবাড়ির স্বজন ও প্রশাসনে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা শেষ পর্যন্ত মোয়াজ্জেমকে জামিনের জন্য হাইকোর্টে আসতে বাধ্য করেন।

নাম প্রকাশে ইচ্ছুক গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা খবর পাই, আজ (রোববার) মোয়াজ্জেম জামিন নিতে হাইকোর্টে আসবেন। সে কারণে আমরা হাইকোর্টে তৎপর ছিলাম। তবে তিনি কোন আইনজীবীর দ্বারস্থ হবেন, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল না। ফলে হাইকোর্টের প্রতিটি আইনজীবীর চেম্বার আমাদের খুঁজে দেখতে হয়েছে। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছিল। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়েই শেষ পর্যন্ত মোয়াজ্জেম হাইকোর্টের বাইরে বের হতে বাধ্য হয়। আর সেখান থেকেই শাহবাগ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে তাকে।

কুমিল্লার মুরাদনগরে থাকেন মোয়াজ্জেম হোসেনের খালাত ভাই খায়রুল ইসলাম মিনহাজ। তিনি বলেন, আজ (রোববার) সকাল ১০টায় জামিন আবেদন নিয়ে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের মাধ্যমে হাইকোর্টে ২৫ নম্বর কোর্টে হাজির হন মোয়াজ্জেম। আদালত জামিন শুনানির জন্য আগামীকাল সোমবার (১৭ জুন) তারিখ নির্ধারণ করেন। পরে হাইকোর্ট এলাকা থেকেই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে এবং তা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন। এ মামলায় মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ২৭ মে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল। এরপর থেকে লাপাত্তা ছিলেন মোয়াজ্জেম।