• আজ ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ব্রণের চিকিৎসায় চুমু, তরুণীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিলেন পপুলারের চিকিৎসক

১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, জুন ১৭, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ডেফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী।

ওই তরুণীর অভিযোগ, ব্রণের ইনফেকশন দেখার ছলে পপুলারের চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ এবং লেজার কসমেটিক সার্জন ডা. মো. শওকত হায়দার তার গালে চুমু দেওয়াসহ যৌন হয়রানি করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার। ঘটনার পরে ওই তরুণী এবং ডা. মো. শওকত হায়দারের একটি অডিও ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। গতকাল রোববার সময় টেলিভিশনে ওই অডিওটি প্রকাশ করেছে। সেই ফোনালাপে বার বার ওই চিকিৎসককে দুঃখিত বলতেও শোনা গেছে।

এই ঘটনার পর ওই তরুণী পপুলার হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পপুলার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসক ও ছাত্রীর এক ফোন আলাপ থেকে জানা যায়, ঐ ছাত্রী চিকিৎসকের কাছে ফোন করে এবং জানতে চায় কেন চুমু খেলো। তখন ডা. শওকত বলেন, ‘কিস করিনি, কি একটা দাগ ছিলো সেটা দেখেছি। তখন ছাত্রী আবার জানতে চায় তা ঠোঁট দিয়ে মুখ দিয়ে করতে হয়। তখন ডাক্তার বলেন, ঐখানে ইনফেকশন আছে কিনা সেটা দেখেছি। পরে ডা. শওকত ছাত্রীকে দুঃখিত বলেন।

ঘটনার বিবরণে ওই তরুণী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ত্বকে ব্রণের সমস্যা নিয়ে পরিচিত একজনের রেফারেন্সে প্রথমবার পপুলার হাসপাতালের ওই ডাক্তারের কাছে যান তিনি। পরবর্তীতে চিকিৎসার প্রয়োজনে আরো কয়েকবার প্রায় বাবার বয়সী ডাক্তারের কাছে যান তিনি।

সর্বশেষ গত শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে ওই তরুণী ডা. শওকতকে জানান তার ত্বকের সমস্যা আবার বেড়েছে, রাতে তিনি চেম্বারে বসবেন কিনা? এসময় ওই ডাক্তার চেম্বারেই আছেন জানিয়ে মেয়েটিকে তখনই যেতে বলেন।

পরে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে ওই তরুণী জানতে চান তার সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান আছে কিনা। এসময় সেই ডা. শওকত বলেন, যদি সে চায় তবে একটা ইনজেকশন দেয়া যেতে পারে। তবে ইনজেকশনটি কোমরে দিতে হবে। মেয়েটির ইতস্ততভাব দেখে ওই ডাক্তার তাকে বলেন, কাপড়ের উপর দিয়েই ইনজেকশন দেয়া যাবে।

মেয়েটি তার অভিযোগে জানায়, ইনজেকশন দিতে রাজি হয়ে পেসেন্ট টেবিলে শুলে ওই ডাক্তার মেয়েটির বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতে থাকেন। মেয়েটি প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন, কোথায় ইনজেকশন দিলে ভালো হয় তা চেক করে দেখছিলেন তিনি।

পরে ওই তরুণী সেই ইনজেকশন হাতেই দিতে বলেন। ওই তরুণী অভিযোগ করেন, ডাক্তার ইনজেকশন দেবার পর তুলা দিয়ে চেপে না ধরে না তার জামার ভিতর হাত ঢুকিয়ে দেন। এ অবস্থায় মেয়েটি তাড়াতাড়ি সরে এসে ডাক্তারের ফিস দিয়ে চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। এসময় সেই ডাক্তার আরেকবার তার গালের ইনফেকশনটি দেখতে চান। গাল দেখার ছলে ডা. শওকত ওই তরুণীকে চুম্বন করেন।

এদিকে এ বিষয়ে ডা. শওকত কে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এ রকম ঘটনা ঘটেনি। তার সাথে দেখা করতে চাইলে তিনি রাজি হননি।

পপুলার হাসপাতালের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের প্রধান অচিন্ত্যকুমার নাগ বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তিনি অস্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Loading...