ক্ষোভ ঝাড়লেন ওসি মোয়াজ্জেমের ভাই

১:২০ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুন ১৭, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- গা‌য়ে হালকা হলুদ র‌ঙের প‌লো গে‌ঞ্জি। চো‌খে কা‌লো চশমা। মু‌খে হালকা দা‌ড়ি। সাম‌নে পিছ‌নে সাদা পোশাক ও পোশাকধা‌রী আরো আট-দশজন পু‌লিশ সদস্য। মাথা নিচু ক‌রে নি‌জের চেহারা আড়াল ক‌রে একপ্রকার মুখ ঢে‌কে প্রিজন ভ্যা‌নে উঠ‌লেন ফেনীর সোনাগাজী থানার সা‌বেক ওসি মোয়া‌জ্জেম হো‌সেন।

আজ সোমবার দুপু‌রে শাহবাগ থানার ওসি অপা‌রেশন্স মাহবুব আল‌মের তালাবদ্ধ রুম থে‌কে কো‌র্টে পাঠানোর সময় এভা‌বেই প্রিজন ভ্যা‌নে উঠেন মোয়া‌জ্জেম হো‌সেন।

এর আগে রোববার বিকালে শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মোয়াজ্জেমকে। এরপর সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার ভাই আরিফুজ্জামান খন্দকার।

যশোরের বাসিন্দা ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের ভাই আরিফুজ্জামান খন্দকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ভাই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেছে। এটা ঠিক। কিন্তু তিনি তো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেননি। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক সেটি প্রকাশ করেছে। আমার ভাইকে গ্রেফতার করা হলেও, সন্ধ্যায় দেখলাম সেই সাংবাদিক টিভিতে লাইভ দিচ্ছে।

তিনি বলেন, নুসরাত হত্যার মূল মামলা ও আসামিদের বাদ দিয়ে ওসিকে নিয়ে বেশি নড়াচড়া করা হচ্ছে। এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক।

উল্লেখ্য, যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার এই দ্বিতল বাড়িতে মোয়াজ্জেমের স্ত্রী-সন্তান কেউ থাকেন না। এখানে তার মায়ের সঙ্গে বাস করেন ছোট দুই ভাই ও এক বোন। তার অন্য দু’ভাই আমেরিকা ও সৌদি প্রবাসী।

ওসি মোয়াজ্জেমের বাবার নাম খন্দকার আনসার আলী। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। তাদের আদি বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা গ্রাামে।
বাবার চাকরি সুবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে যশোর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ১৯৯৭ সালে উপ-পরিদর্শক পদে পুলিশে যোগদান করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। ২০১০ সালের দিকে পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান। টানা দেড় বছর সোনাগাজী থানায় ওসির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে বিচার প্রত্যাশায় স্থানীয় থানায় গেলে সহযোগিতার বদলে সে ঘটনা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে তাকে হয়রানি করেন ওসি মোয়াজ্জেম।

তখন তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেননি। বরং নুসরাতের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে ভাইরাল করা হয়। এতে আসামিরা আরও সাহসী হয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজী থানা থেকে ওসি মোয়াজ্জেমকে প্রত্যাহার করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং রংপুর রেঞ্জে তাকে সংযুক্ত করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। ওই আদালত গত ২৬ মে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে লাপাত্তা হন ওসি মোয়াজ্জেম। রোববার‌ দুপু‌রে শাহবাগ থানা এলাকা থে‌কে গ্রেফতার হন সা‌বেক ওসি মোয়া‌জ্জেম হো‌সেন।