পুলিশের কক্ষেই ঘুমিয়েছেন ওসি মোয়াজ্জেম, পরানো হয়নি হাতকড়াও!

৬:১৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুন ১৭, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- গুরুতর অভিযোগ নেই, একেবারেই সাধারণ মানুষ, সমাজে প্রতিষ্ঠিত- এমন মানুষদেরকে আদালতে হাজির করার সময়ও পুলিশ হাতকড়া পরায়। কখনো কখনো কোমড়ে রশি বেঁধে সমালোচিতও হয়েছে তারা। অথচ ফেনীর সোনাগাজী থানার বরখাস্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে আদালতে হাজির করার সময় তাকে ‘মুক্ত’ অবস্থায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এটা পুলিশের পক্ষপাত কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর রবিবার রাজধানী ঢাকা থেকে আটক হন তিনি। আইনের কর্মকর্তা হয়েও আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান না দেখিয়ে পালিয়ে যাওয়া এই কর্মকর্তা এই ‘সম্মান’ পেতে পারেন কি না, এ নিয়ে এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পালিয়ে যাওয়া সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে হাতকড়া না পরানোয় আদালতে ক্ষোভ জানিয়েছেন আইনজীবী। তার বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলার বাদী সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন এই প্রশ্ন তুলে বলেছেন, অন্য আসামিদের প্রতি পুলিশ সদয় থাকবে কি না।

রবিবার ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পরদিন ওসি মোয়াজ্জেমকে আদালতে তোলে পুলিশ। তাকে গাড়ি থেকে নামানোর পর চার পাশ থেকে ঘিরে আদালতে নেয়া হয়। এমনিতে পুলিশ আসামিদের হাতকড়া বা কোমরে দড়ি পরিয়ে নিলেও মোয়াজ্জেমের গায়ে হাতই দেয়নি। উল্টো তার বেশভুষা ছিল পরিপাটি। চোখে ছিল রোদ চশমা। আর এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলের মামলার বাদী সুমন।

পরে সাংবাদিকদের সুমন বলেন,‘ওসি মোয়াজ্জেমকে হাতে হাতকড়া দিয়ে আনা হয়নি। সে বিষয়ে পুলিশ ভালো জানেন কেন আনেননি। তবে পুলিশ ভাইয়দের কাছে অনুরোধ করে বলেন, অন্য আসামিদের বেলায়ও যেন একই ট্রিটমেন্ট করা হয়।’

এর আগে সুমন শুনানিতে বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম আইনের মানুষ হয়ে কেন পলাতক হয়েছেন? উনি নির্দোষ হলে আদালত আত্মসমর্পণ করতেন। ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক হয়ে গোটা জাতিকে বিস্মিত করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নিবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ২০ দিন আগে এই ট্রাইব্যুনালই সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০ দিন পর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যিনি আইনের রক্ষক ছিলেন। পুলিশ বাহিনীর হয়ে আইনের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির পর আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আদালত আত্মসমর্পন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে সাধারণ জনগণের মতো ওয়ারেন্টকে ভয় পেয়ে পলাতক হন। পলাতক অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।’

এর আগে সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে রোববার (১৬ জুন) বিকেলে হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর রাখা হয়েছিল শাহবাগ থানায় পুলিশ অফিসারদের কক্ষে। সেখানেই রাত কেটেছে তার। পরদিন সোমবার (১৭ জুন) সকালে প্রিজন ভ্যানে তোলার আগ পর্যন্তও সেখানেই ছিলেন তিনি। রাতের ঘুম, সকালের নাস্তা— সবই তাকে সারতে হয়েছে পুলিশ অফিসারদের সেই রুমেই।

শাহবাগ থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোমবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এসআই জানান, থানায় সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে যেমন আচরণ করা হয়, মোয়াজ্জেমের সঙ্গেও তেমন আচরণ করা হয়েছে। তবে হাজত খানায় অন্য আসামির সঙ্গে না রেখে তাকে ঘুমাতে দেওয়া হয় অফিসারের কক্ষে। এমনকি সকালে তিনি নাস্তাও সেরেছেন পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মাহবুবুর রহমানের কক্ষে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই থানার আরেক এসআই জানান, শাহবাগ থানায় ওসি মোয়াজ্জেম রাত কাটিয়েছেন বেশ আরামেই। অন্য কয়েদিদের সঙ্গে রাত কাটাতে হয়নি তাকে। তার খাবারও পরিবেশন করা হয়েছে আলাদাভাবে।

এ বিষয়ে জানতে পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালে অফিসে ছিলেন না বলে জানান। বিষয়টি নিয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন মাহবুব।

ওসি আবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমরা তাকে আদালতে পাঠিয়েছি। বিষয়টি এখন আর আমাদের কাছে নেই। ’

Loading...