সংবাদ শিরোনাম
ব্যস্ত সময় পার করছেন সাভার ও আশুলিয়ার প্রতিমা শিল্পীরা | অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী | পরকীয়া প্রেমিক নাতির পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন দাদি! | মাগুরায় যুবলীগ নেতার পিতার উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন | শিক্ষা দিবসে ইবি ছাত্র ইউনিয়নের র্যালি | আট দিনের আন্দোলনেও সুরাহা মেলে নি বাকৃবি শিক্ষার্থীদের | প্রকল্পের পণ্য কিনতে দাম নির্ধারণে সর্তক হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর | বাকৃবিতে জিটিআইয়ে কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী | নেত্রী পদে থাকতে বলেন থাকব, না বললে থাকব না: কাদের | প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে হবে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার হাসপাতাল |
  • আজ ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভুল চিকিৎসার খেসারত! তবুও তানিয়া কি বাঁচবে?

৯:০১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ১৮, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

মোহাম্মদ আরীফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ হাওড় অঞ্চল থেকে- ভৈরবের মেডিল্যাব জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াবেটিক সেন্টারের চিকিৎসকদের ভুলের খেসারত দিচ্ছে মোছাঃ তানিয়া (১৯) নামে এক মেয়ে।

এ ঘটনা গত ১৬ জুন রোববার তানিয়ার পিতা উত্তর গোবরিয়া গ্রামের মৃত হাজী আমিনুল হকের পুত্র মোঃ আক্কাছ মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মে তানিয়ার পেটে ব্যাথা শুরু হলে তাকে ভৈরবের মেডিল্যাব জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াবেটিক সেন্টারে নেওয়ার পর হাসপাতালের মালিক ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কে এন এম জাহাঙ্গীর এবং ডা. হাফিজা খাতুন তানিয়াকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে ২ দিন রেখে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানায় তানিয়ার পিত্ত থলিতে পাথর ও গর্ভে ৪ মাসের সন্তান আছে এবং রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যান তারা।

তানিয়া কিছুটা সুস্থ্য হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে বাড়ি নিয়ে যায় তার পরিবার। একদিন পর গত ২০ মে পুনরায় পেটে ব্যাথা শুরু হলে তানিয়াকে আবার ওই হাসপাতারে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকরা পুণরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, তানিয়ার কিডনী ফুলে গেছে। এ সিদ্ধান্ত মোতাবেক আবার চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ফলে তানিয়ার শরীরের অবস্থার অবনতি দেখা দেয়। চিকিৎসকদের পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী দুই রকম কথা বলায় তানিয়ার পরিবারে সন্দেহ হলে চিকিৎসকদের অনুমতি ছাড়াই ঐ হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে গত ২১ মে ভাগলপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

ভাগলপুর হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানা যায়, তানিয়ার পিত্ত থলিতে কোন পাথর নেই। এমনকি কিডনী ও ফুলে যায়নি। ভৈরব মেডিল্যাব হাসপাতালের চিকিৎসকরা ভুল রিপোর্ট দিয়ে ভুল চিকিৎসা করেছে। মূলত তানিয়ার এপেন্ডিস সাইটিস ফেটে গেছে।

যে কারণে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, রোগী বাঁচান না হয় সন্তান বাঁচান। চিকিৎসাকালে তানিয়ার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। পরে তানিয়ার শরীরের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে নেওয়ার পর তানিয়ার এপেন্ডিস সাইটিসের অপারেশন করা হয়। হাসপাতালে ২ দিন রাখার পর ইনফেকশন হলে তানিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় পুনরায় অপারেশন করা হয়। এতেও রোগী সঙ্কামুক্ত না হওয়ায় তাকে আই.সি.ইউ তে ভর্তির পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালে আই.সি.ইউ তে কোন সিট খালি না থাকায় ঢাকা সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আই.সি.ইউ তে ভর্তি করা হয়।

তানিয়াকে ৯ দিন আই.সি.ইউ তে রাখার পর বর্তমানে সিটে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে। কৃষক পরিবারের মেয়ে তানিয়ার চিকিৎসার ব্যয় হয়েছে ৭ লক্ষ টাকা এবং প্রতিদিন হাসপাতাল খরচ চালাতে হচ্ছে ১০ হাজার টাকা।

তানিয়ার পরিবারের দাবী, ভৈরব মেডিল্যাব জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াবেটিক সেন্টারের মালিক ডাঃ কে এন এম জাহাঙ্গীর ও ডাক্তার হাফিজা খাতুনের অবহেলা ও ভুল রিপোর্ট দিয়ে ভুল চিকিৎসার কারণে তানিয়াকে খেসারত দিতে হচ্ছে। অর্থনৈতিক ও মানুষিকভাবে খেসারত দিতে হচ্ছে তানিয়ার পরিবারকে । তারা ঐ চিকিৎসকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবী জানান।

এ ব্যাপারে তানিয়ার পিতা মোঃ আক্কাছ মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এ ছাড়া মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচীব, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের মন্ত্রী পরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি প্রেরণ করেন।

এ ব্যাপারে ভৈরব মেডিল্যাব জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াবেটিক সেন্টারের মালিক ডাঃ কে এন এম জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তানিয়াকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা করার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, তানিয়ার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তানিয়ার বাবার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।