বিষ মাখানো জীবনদায়ী উদ্ভিদ ‘কাঁকড়ার চোখ’

১:৫৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, জুন ১৯, ২০১৯ জানা-অজানা

জানা-অজানা ডেস্ক :: একজোড়া লাল চোখ, যেন প্রকৃতির উদ্ধত চ্যালেঞ্জ। নিঃশব্দে বলে দিচ্ছে-খবরদার। যারা এই চোখের মায়ায় পড়েছেন তাদের কিন্তু বমি অবধারিত। ফল মৃত্যু। ভয়ঙ্কর অথচ সুন্দর এই লাল চোখের ফল যে কাউকে আকর্ষণ করে তার রূপের হাতছানি দিয়ে। মনে হয় সমুদ্র বালুকাবেলায় ভেসে আসা কাঁকড়ার স্থির দৃষ্টি। কেউ হয়ত কাছে গিয়েছেন, দেখেছেন নয়নভরে। ব্যাস ওইটুকুই ঠিক। আর কেউ অতি উত্‍সাহে যদি সেই লাল চোখের প্রেমে মত্ত হয়ে ভুলেও এর বিষাক্ত চুম্বনের পাল্লায় পডড়েছেন তো মৃত্যু আসবে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েই।

কখনও লাল তো কখনও কমলা-কখনও কালো তো কখন সাদা প্রকৃতি বৈচিত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রঙ পাল্টে নেয় কুঁচের বীজ। তবে তার লাল রঙটি সবথেকে আকর্ষণীয় বলেই ধরা হয়। ঘন সবুজ পাতার মধ্যে ফুটে থাকা অনবদ্য কুঁচ এমনই। মনে পড়ে কি কোনও এক গাঁয়ের শ্যামলা কন্যা তার কেশরাশিতে কুঁচ বীজের মালা পড়েছিল? সেই কন্যা কি জানত সে অঙ্গে বিষের ডালি নিয়েছে? তবুও সাহিত্যের পাতায় সেই কন্যা কখন যেন কুঁচ ফলকে চিরস্থায়ী করে দিয়েছে।

এই ভয়ঙ্কর চোখের ফলটি তো আমাদেরই পরিচিত। কিন্তু বড্ড অপরিচিত তার ব্যবহার। সাধারণত আয়ুর্বেদিক ও কবিরাজি শাস্ত্রেই রয়েছে এর কদর। বাংলার কুঁচ, উদ্ভিদ বিজ্ঞানে এর পরিচয় হল আব্রুস প্রেক্যাটরিয়াস (Abrus precatorius)- নীরবেই মৃত্যুর জাল বিছিয়ে রেখেছে। আবার তারই বিষ থেকে তৈরি হচ্ছে ওষুধ। জীবনদায়ী ও প্রাণঘাতী দুই তকমা নিয়েই ছড়িয়ে রয়েছে এরা।

কতই যে নামে এই বীজ পরিচিতি। বিজ্ঞানের পরিভাষা বাদ দিলেও একাধিক নাম মেলে- রতি, রত্তি, কুঁচ, কইচ গোটা। কুঁচের আরও যেসব নাম আছে সেগুলো হচ্ছে চূড়ামণি, শাঙ্গুষ্ঠা, গুঞ্জা, সৌম্যা, শিখন্ডী, কৃষ্ণলা, অরুণা, তাম্রিকা, রক্তিকা, কম্ভোজী, ভিল্লিভূষণা, মাণচূড়া। আর কুঁচের সাদা প্রজাতিটির নাম হচ্ছে শ্বেতগুঞ্জা, ভিরিন্টিকা, কাকাদনী।

আয়ুর্বেদে রয়েছে এর গুণাগুণ। এই ধারার চিকিত্‍সকরা ফলটির অশেষ কদর করেন। অত্যন্ত যত্ন সহকারে গাছটির পরিচর্যা করেন তাঁরা। কারণ সেই বিষের ভয়। কেউ যদি ভুল করেও মুখে দিয়েছে তো তার আর রক্ষা নেই। অতএব কবিরাজ-হাকিমদের ঝুলিতেই তার যেন আসল কদর। তবে বীজগুলো গয়না, অলংকার তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়। এই বীজ বা তার গুঁড়ো খেয়ে ফেললে বমি, গর্ভপাত সহ মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

সাবধান- লাল চোখের এই বিষ বীজের হাতছানি থেকে দূরেই থাকুন। তবে একে রক্ষা করুন জীবন বাঁচানো ওষুধ তৈরির স্বার্থে। কারণ, চর্মরোগ, শ্নেষ্ফ্মা, শিরঃরোগ, কৃমি, শূলব্যথায়, কেশ রঙ করতে এর ব্যবহার আছে আয়ুর্বেদে।

Loading...