পশ্চিমাদের ইসলাম বিদ্বেষের শিকার কোরআনের হাফেজ মুরসি: চরমোনাই পীর

৪:৪৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুন ২০, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- সদ্যপ্রয়াত মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি পশ্চিমাদের ইসলাম বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

তিনি বলেন, মোহাম্মাদ মুরসি অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। তাকে অনৈতিকভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। মূলত এই অবিসংবাদিত মুসলিম নেতা পশ্চিমা ইসলামবিদ্বেষের শিকার হয়েছিলেন।

মিসরের প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ড. হাফেজ মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে গণমাধ্যমে প্রেরিত শোকবার্তায় চরমোনাই পীর এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, মোহাম্মাদ মুরসি একজন হাফেজে কোরআন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, খোদাভীরু একজন প্রেসিডেন্টের ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত। মুরসির ইন্তেকালে বিশ্ববাসী একজন অবিসংবাদিত নেতাকে হারালো।

তিনি বলেন, অর্থের বিনিময়ে কাতারের কাছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নথি পাচারের যে অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছিল, তা ছিল একটি অজুহাত মাত্র। অন্যায় অবিচার,জুলুম আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সদা তিনি সোচ্চার ছিলেন বলেই তাকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিলো।

মুফতি রেজাউল করীম আরও বলেন, মিসরের সর্বস্তরের জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত মুহাম্মদ মুরসি একজন প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্বেও সাদাসিদে জীবন যাপন করতেন, উচ্চ বিলাসিতা পরিহার করে পরিবার পরিজনসহ রাজধানী কায়রোতে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। কারা প্রকোষ্ঠে মানবেতর জীবন যাপন করেছেন এবং মাজলুম অবস্থায় কারাগারেই তিনি বিনা চিকিৎসায় মারা যান।

উল্লেখ্য, পরিবার ও বন্ধুদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, অজ্ঞান হয়ে প্রায় ২০ মিনিট এজলাসের খাঁচায় পড়েছিলেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।

মুসলিম ব্রাদারহুডের ৬৭ বছর বয়সী এই নেতা অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে গেলে তার দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে নিরাপত্তা প্রহরীদের অনুরোধ করেন অন্য আসামিরা। কিন্তু মেঝেতে প্রায় ২০ মিনিট পড়ে থাকার পর তাকে খাঁচা থেকে বের করা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিসরের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস। তাদের দাবি, অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ার পর মুরসিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার ও মুসলিম ব্রাদারহুডের অভিযোগ, বিনা চিকিৎসায় মুরসিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কারাগারে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিকস, কিডনি ও লিভারজনিত অসুখে ভুগছিলেন যার যথাযথ চিকিৎসা তিনি পাননি।

মৃত্যুর আগে প্রায় ছয় বছর দিনে ২৩ ঘণ্টা নির্জন সেলে কাটাতে হয়েছে মুরসিকে। শুধু দিনে এক ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করার সুযোগ পেতেন তিনি। এর মধ্যে মাত্র তিনবার তার পরিবারের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পায়।