ঘুষ গ্রহনের অভিযোগে সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার অবরুদ্ধ

৭:২৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুন ২৪, ২০১৯ রংপুর
OBORUDDHO

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সেটেলমেন্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত পেশকার তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমির পর্চা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে নিরীহ এলাকাবাসীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের টাকা গ্রহণ করে দীর্ঘদিন ধরে জমির পর্চা না দিয়ে টালবাহানা করায় এলাকাবাসী তরিকুল ইসলামকে তার অফিসে কয়েকঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

সোমবার (২৪ জুন) দুপুরে বিক্ষুব্ধ জমির মালিকরা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত পেশকার তরিকুল ইসলামকে তার নিজ অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আবু সাঈদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ সেটেলমেন্ট অফিসে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই পেশকার তরিকুলের গ্রহণকৃত ঘুষের টাকা ফেরত ও উপযুক্ত বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিভিন্ন রকম পর্চা ও রেকর্ডের সংশোধন বাবদ কাগজপত্রে আইনের জটিলতা দেখিয়ে এলাকার জমির মালিকদের কাছ থেকে সরকারী নির্ধারিত খরচ ছাড়াও মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন পেশকার তরিকুল ইসলাম। তিনি দালালদের সাথে যোগসাজশে দীর্ঘদিন যাবৎ অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে এলাকার জমির মালিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে মোটা অংকের টাকা উপার্জন করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ম্যাপশিট তুলতে সরকারি ফি ছাড়াও দলিলের নকল রংপুর থেকে তুলে এনে দেয়ার নাম করে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার ও অভিযোগ রয়েছে।

এসময় উপজেলার বিভিন্ন এলকা থেকে আসা জমির মালিকগন জানান, পর্চার জন্য সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত পেশকার তরিকুল ইসলাম তাদের কাছে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন। কিন্তু দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় জমির পর্চা দিতে টালবাহানা শুরু করে। একপর্যায় মৌজা শাখাতী এলাকার কৃষক মতিয়ার রহমান ৩২ হাজার ও রশিদা সাড়ে ৫ হাজার, ফারুক ৩৫ হাজার টাকা সহ বেশ কিছু জমির মালিকগনের কাছ থেকে পেশকার তরিকুল প্রায় লক্ষলক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। এদিকে কৃষকে জমির পর্চা না দিয়ে তরিকুলের অন্যত্র বদলি খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী সোমবার ২৪ জুন টাকা ফেরত চেয়ে তার অফিসে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও সুশীল সমাজ কালীগঞ্জ সেটেলমেন্ট অফিসের দুর্নীতিবাজ পেশকার তরিকুলের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য ভারপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত পেশকার তরিকুল ইসলামের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলে তা সুইচ অফ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় সেটেলমেন্ট অফিসার ফজলুর রহমান জানান, নিরীহ এলাকাবাসীর কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আবু সাঈদ ঘটনা বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগীরা এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে তফন্তপুর্বক তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল হাসান বলেন ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা তবে এবিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপুর্ব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।