কীভাবে বুঝবেন সংসার টিকছে না?

১১:২৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, জুন ২৬, ২০১৯ লাইফস্টাইল

লাইফস্টাইল ডেস্ক- দাম্পত্য সম্পর্কে ঝগড়া না থাকলে তা একসময় পানসে মনে হয়। চাওয়া-পাওয়ার তারতম্য ঘটলে সেখানে ঝগড়া আসতে পারে। আবার এই ঝগড়াঝাঁটি একসময় ঠিকও হয়ে যায়। কিন্তু সম্পর্ক যদি এমন তলানিতে গিয়ে ঠেকে যে সেখান থেকে উদ্ধারের কোনো আশাই নেই, তাহলে মুশকিল।

বিশ্বে গত কয়েক বছরে বিবাহবিচ্ছেদের হার আতঙ্কজনকভাবে বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বিয়ের পর যত দিন গড়াতে থাকে পারস্পরিক সহমর্মিতা কিংবা আকর্ষণবোধ ধীরে ধীরে ফিকে হতে থাকে। স্বামী বা স্ত্রীর ছোটখাটো খুঁত আস্তে আস্তে বড় হয়ে দেখা দিতে থাকে। এক সময় দাম্পত্যের বন্ধনকে বোঝা মনে হয়। ভারমুক্তির জন্য তখন বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়া আর উপায় থাকে না।

আপনার যদি মনে হয় স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে আগের মতো আর আপনার তাল মিলছে না, সম্পর্কে তিক্ততা বেড়েই চলেছে; তাহলে ধরে নিতে পারেন আপনার দাম্পত্যজীবন ঝুঁকির মধ্যে। পরিস্থিতি ডিভোর্সের মতো বেদনাদায়ক পর্যায়ে গড়াতে পারে।

এ অবস্থায় আপনার বিয়েটা শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না, তা বুঝতে নিচের সাধারণ লক্ষণগুলো আপনাকে সাহায্য করবে:

দুটি হৃদয় এখন আর আগের মতো অভিন্ন নয়
বিয়ে মানব-মানবীর হৃদয়ে এক অদৃশ্য বন্ধন তৈরি করে। স্বামী-স্ত্রীর দুই দেহে যেন এক প্রাণ। ভালোবাসার বন্ধন স্বামী-স্ত্রীকে দুঃখ-কষ্টে মানসিকভাবে এক করে রাখে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একজন আরেকজনের ভাগ নেয়; বিশেষ করে, সংসারে সন্তান এলে এই পারস্পরিক দায়িত্বের ভাগাভাগির মানসিকতা বেড়ে যায়। কিন্তু আপনার যদি মনে হয় আগের মতো আর আপনি আপনার স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি দায়িত্বশীলতা অনুভব করছেন না, সংসারের কোনো বিষয়ে একা একাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন; এমনকি ছুটির দিনে স্বামী বা স্ত্রীকে সময় না দিয়ে একাই বাইরে থেকে বেড়িয়ে আসছেন—তাহলেই বুঝবেন সম্পর্কে বড় ধরনের চিড় ধরেছে। আপনার দাম্পত্য বন্ধন হুমকির মুখে।

প্রতারণা
বর্তমানে যত ডিভোর্সের ঘটনা ঘটছে তার বেশির ভাগেরই মূল কারণ প্রতারণা। পুরোনো একটি প্রবাদ আছে: ‘বিশ্বাস হলো আয়নার মতো। আয়না একবার ভেঙে গেলে তা আপনি জোড়া লাগাতে পারেন, তাতে মুখও দেখতে পারেন। কিন্তু ভাঙা আয়নার ভাঙা দাগ থেকেই যাবে।’ কোনো স্ত্রী যদি স্বামীর সঙ্গে কিংবা কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীর সঙ্গে একবার প্রতারণা করে বা ঠকায়, তাহলে অবিশ্বাসের দাগ প্রতারিত স্বামী বা স্ত্রীর মনে স্থায়ীভাবে গেথে যায়। প্রতারিত স্বামী বা স্ত্রী সব সময় তার সঙ্গীকে সন্দেহের চোখে দেখতে থাকে। ভবিষ্যতে আবার প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা একপর্যায়ে তাকে ডিভোর্সের ফাইলে সই করতে বাধ্য করে।

দুজনের দুই রকমের ভাবনা
বিয়ের পর সাধারণত স্বামী-স্ত্রী দুজনের ভাবনা ও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা অভিন্ন থাকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অভিন্ন ভাবনা ভিন্ন হয়ে যেতে পারে। ধরুন, আপনি ঠিক করলেন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উন্নত বিশ্বের কোনো একটি দেশে স্থায়ীভাবে চলে যাবেন। উন্নত জীবনযাপন করবেন। কিন্তু দেখা গেল আপনার স্ত্রী দেশেই ভালো কিছু করার কোনো পরিকল্পনা করে বসে আছেন। এ নিয়ে মনকষাকষি হলে বুঝবেন আপনাদের অভিন্ন ভাবনার জগিট অদৃশ্য আত্মকেন্দ্রিকতার ঘুণে নষ্ট করে ফেলেছে। বুঝবেন আপনাদের পারস্পরিক রোমাঞ্চকর ভাববিনিময়ে ঘাটতি রয়েছে। সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব না হলে বিবাহবিচ্ছেদ অবশ্যম্ভাব

পরস্পরকে বোঝার চেষ্টার অভাব
পরস্পরের মধ্যে ভাবনাবিনিময় জোরালো দাম্পত্য সম্পর্কের পূর্বশর্ত। আপনি যদি আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে নিজের ভাবনা শেয়ার না করেন, তাঁর সঙ্গে সারাক্ষণ নিরস-নিরুত্তাপ কথাবার্তা বলেন; সংসারের তেল নুন ডালের আলাপ-আলোচনাতেই দিন-রাত পার করেন, তাহলে বুঝবেন সম্পর্কে দূরত্ব বেড়েছে। একঘেয়েমি সাংসারিক আলোচনায় এক সময় হাঁপিয়ে উঠবেন, যা ডিভোর্সের মতো পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

সুস্থ যৌন সম্পর্কের ঘাটতি
বিয়ের পরপর যৌন সংসর্গে স্বামী-স্ত্রীর যে আগ্রহ থাকে, সময়ের সঙ্গে সেই আগ্রহে ভাটা পড়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি দেখেন যথেষ্ট তারুণ্য ও শারীরিক সক্ষমতা থাকার পরও আপনি আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সংসর্গে অনীহা বোধ করছেন, তাহলে বুঝবেন সংসার ভাঙনের পথে। বাস্তবতা হলো স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক বন্ধন টিকিয়ে রাখার প্রধান শর্তই হল সুস্থ ও স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক।

অর্থকড়িও কাল হতে পারে
ধরুন স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক শীতল হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আপনার স্বামী বা স্ত্রী যদি আপনার উপার্জন, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ঋণ ইত্যাদি নিয়ে হঠাত্ করে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন, তাহলে সেটাকে খারাপ লক্ষণ হিসেবে মনে করা যেতে পারে। ডিভোর্সের পর আপনার স্বামী বা স্ত্রী আপনার সম্পদের কতটুকু হিস্যা পাবেন, তা হিসাব-নিকাশ করার জন্যই এমনটা করছেন বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। মনে রাখবেন, বিয়ের সময় আর্থিক বিষয়টি ততটা বড় হয়ে সামনে না এলেও ডিভোর্সের সময় কোনো পক্ষই ছাড় দেয় না। কড়ায়-গন্ডায় নিজের হিস্যা বুঝে নেয় (অবশ্য এ ধরনের মানসিকতা পশ্চিমাদের মধ্যে প্রকট থাকলেও আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে ততটা নেই)।

আগের চেয়ে ঝগড়াপ্রবণ হয়ে ওঠা
দাম্পত্যজীবনে ভুলবোঝাবুঝি ও ঝগড়া হবেই। তবে স্বাভাবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ঝগড়া খুবই ক্ষণস্থায়ী। প্রচণ্ড ঝগড়ার পর দিনের শেষে স্বামী বা স্ত্রীর কানে ফিসফিস করে একটা ‘ম্যাজিক ওয়ার্ড’ উচ্চারণ করলেই সব রাগ এক মুহূর্তে পানি। কিন্তু যদি দেখেন আপনি আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে সারাক্ষণই রূঢ় ভাষায় কথা বলছেন। দুজনই খিটমিটে আচরণ করছেন এবং তার জন্য অনুশোচনাবোধ করছেন না। এ অবস্থায় বুঝবেন সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিয়ে ভাবার সময় এসে গেছে।

তবে সম্পর্কে অবনতি ঠেকাতে চাইলে অবশ্যই কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে-

আলোচনা
সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। পরস্পরের সঙ্গে কথা বললে, পরস্পরের কথা মন দিয়ে শুনলে অনেক সমস্যারই সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব। পুরোনো দিনগুলোর গল্প দিয়েই শুরু করতে পারেন।

ইতিবাচক থাকুন
সময়ের সাথে সাথে সম্পর্কেরও ধরন বদলায়। তাই আপনার সঙ্গী প্রথমদিকে আপনার সঙ্গে কেমনভাবে কথা বলতেন তা দিয়ে আজকের সম্পর্কটাকে বিচার করতে যাবেন না। বরং সম্পর্কে স্বচ্ছন্দ থাকুন।

শরীরী আকর্ষণ
কাজে বের হওয়ার আগে ছোট্ট চুমু, একটু জড়িয়ে ধরা, হাতের উপর হাত রাখার মতো শরীরী কাজ সম্পর্কে নতুন জোয়ার এনে দিতে পারে। পরস্পরকে আদর করুন, যাতে শরীরে এনডরফিন হরমোন ক্ষরিত হয়। এই হরমোন আপনাদের দুইজনকেই খোশমেজাজে রাখবে, সুস্থ থাকবে আপনাদের সম্পর্কও।

ছাড় দেয়ার মানসিকতা
সুখের সংসার করতে হলে অবশ্যই ছাড় দেয়ার মানসিকা থাকতে হবে। ধরুন আপনার সব কিছুই একদম পারফেক্ট চাই। কিন্তু সঙ্গী ব্যস্ত থাকেন বা তার হয়তো শরীর বা মন খারাপ। কিছু কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না, দিন না একটু ছাড়, নিজেরাই ভালো থাকবেন।

Loading...