• আজ ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এশিয়া খ্যাত দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা হত্যার রায় বৃহস্পতিবার

৭:১৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুন ২৬, ২০১৯ ফিচার

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এশিয়া খ্যাত দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তার ছেলেসহ সাতজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতা বিরোধী অপরাধের করা মামলার রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার।

গতকাল (২৫জুন) বুধবার বিচারপতি মোঃ শাহিনূর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এ মামলার একমাত্র আসামী একাত্তরে শান্তিরক্ষা কমিটির সভাপতি বৈরাটিয়া পাড়ার আবদুল ওয়াদুদের ছেলে রাজাকার মাহবুবুর রহমান (৭০)। মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অপহরণ, আটক-নির্যাতন, হত্যা-গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২ নভেম্বর ১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের ১ বছর ৭মাস ২৫ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার রণদা প্রসাদ সাহা ও তার ছেলেসহ সাতজনকে হত্যার রায় হবে।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাহবুবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মে মধ্যরাতে স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রায় ২০-২৫ জন সদস্যকে নিয়ে মির্জাপুর সাহাপাড়া রণদা প্রসাদ সাহার বাড়িতে আকস্মিক অভিযান ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে রণদা প্রসাদ সাহা ও তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহা, রণদা প্রসাদের ঘনিষ্ঠ সহচর গৌর গোপাল সাহা, রাহাল মতলবসহ ৭ জনকে অপহরণ করে গুলি করে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়। তাদের লাশ আর পাওয়া যায়নি।

২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্ত শুরুর পর ট্রাইব্যুনাল থেকে পরোয়ানা জারি করা হলে ওই বছরের নভেম্বরেই মাহবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিচাািরক কার্যক্রম চলে। অবশেষে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর বিষয়টি এখন রায়ের জন্য আসে। অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

রণদা প্রসাদ সাহার পৈত্রিক নিবাস ছিলো টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে। সেখানে তিনি একাধিক শিক্ষা ও দানব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এক সময় নারায়ণগঞ্জে পাটের ব্যবসার নামেন রণদা সাহা, তিনি নারায়ণগঞ্জের খানপুরের সিরাজদিখানে থাকতেন।