‘রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা যে দলেরই হোক, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে’

১১:১৭ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জুন ২৮, ২০১৯ জাতীয়
ASADUJJAMN

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ শুক্রবার পুরান ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ইতিহাস ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণ ও পারিপার্শ্বিক উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতরা যে দলেরই হোক, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ ও গোয়েন্দারা দক্ষ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ১৩ জন শনাক্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পুলিশ ও গোয়েন্দা সসদস্যরা অত্যন্ত দক্ষ। আমাদের নজর এড়িয়ে কেউ পার পায়নি। রিফাত হত্যায় যারা জড়িত, তাদের অধিকাংশই ধরা পড়েছে। বাকি যে কয়েকজন আছে, তারা অচিরেই ধরা পড়বে— এটা নিশ্চচিত থাকুন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি। সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন তাদের বিচার শুরু হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে কোনো রকমে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালান রিফাত। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। দুই যুবক রামদা দিয়ে তার সারাশরীরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। মিন্নি এ সময় একবার নয়নকে, আরেকবার নয়নের সহযোগী রিফাত ফরাজীকে আটকানোর চেষ্টা করেন। তিনি ‘বাঁচাও’, ‘বাঁচাও’, ‘না’ ‘না’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু ততক্ষণে রামদার কোপে গুরুতর জখম হন রিফাত।

রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কলেজ দিয়ে বের হইছি, ও (রিফাত) আমার সঙ্গে ছিল। তখন কিছু পোলাপান আইসা কী জানি বলা শুরু করছে, ‘গালি দিছো ক্যান, গালি দিছো ক্যান?’ এ রকম জানি কী…। পরে আরও দু-তিনটা ছেলে আইসা কোপান শুরু করছে। আমি অনেক চেষ্টা করছি, কিন্তু ফিরাইতে পারি নাই।’

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি আরও বলেন, ‘দিন-দুপুরে যারা এমন করে, আমি তাদের সুষ্ঠু বিচার চাই। তাদের যেন শাস্তি হয়।’