‘রিফাত হত্যায় ১৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে’-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১২:০৫ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, জুন ২৯, ২০১৯ জাতীয়
ASAD

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ শুক্রবার পুরান ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ইতিহাস ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণ ও পারিপার্শ্বিক উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘পুলিশ ও গোয়েন্দারা দক্ষ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ১৩ জন শনাক্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতরা যে দলেরই হোক, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পুলিশ ও গোয়েন্দা সসদস্যরা অত্যন্ত দক্ষ। আমাদের নজর এড়িয়ে কেউ পার পায়নি। রিফাত হত্যায় যারা জড়িত, তাদের অধিকাংশই ধরা পড়েছে। বাকি যে কয়েকজন আছে, তারা অচিরেই ধরা পড়বে— এটা নিশ্চচিত থাকুন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি। সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন
তাদের বিচার শুরু হয়েছে।’

উল্লেখ্য বুধবার বরগুনা শহরে প্রকাশ্যে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকার সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পাশে থাকা অনেকে এ তাণ্ডব দেখলেও কেউ সন্ত্রাসীদের ঠেকানোর চেষ্টা করেনি।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দুই মাস আগে রিফাত শরীফের সঙ্গে আয়শা আক্তার মিন্নি নামের ওই তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পৌরসভার ক্রোক এলাকার নয়ন বন্ড নামে এক যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। ওই যুবক নিজেকে তরুণীর সাবেক স্বামী এবং প্রেমিক হিসেবে পরিচয় দিতে থাকে। এ নিয়ে রিফাতের সঙ্গে নয়নের বচসা হয়।

এর জের ধরে বুধবার বরগুনা শহরে দেশি অস্ত্রসহ সদলবলে ওতপেতে থাকে নয়ন। রিফাত ও তার স্ত্রী মিন্নি সকালে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা রামদা নিয়ে রিফাতের ওপর চড়াও হয়। এ সময় মিন্নি তাদের বাধা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তার বাধা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীরা রিফাতের সারা শরীরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।

এই ঘটনার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে কোনো রকমে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালান রিফাত। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। দুই যুবক রামদা দিয়ে তার সারাশরীরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। মিন্নি এ সময় একবার নয়নকে, আরেকবার নয়নের সহযোগী রিফাত ফরাজীকে আটকানোর চেষ্টা করেন। তিনি ‘বাঁচাও’, ‘বাঁচাও’, ‘না’ ‘না’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু ততক্ষণে রামদার কোপে গুরুতর জখম হন রিফাত।