ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির ইয়াবা সেবনের দৃশ্য ফেসবুকে,অভিযোগ অস্বীকার

৪:৫৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুন ২৯, ২০১৯ খুলনা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ‍সময়ের কণ্ঠস্বর: ঝিনাইদহ জেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবি এ মূহুর্তে আলোচনার শীর্ষে। বলা চলে ছবিটি ভাইরাল। ছবিতে দেখা যাচ্ছে জেলার প্রভাবশালী ছাত্রনেতা রানা হামিদ ইয়াবা সেবনে ব্যস্ত আর তাকে সহযোগিতা করছেন সাবেক গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক। রানা হামিদ ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি।

গতকাল দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে এস এম ‍শামিম নামের ফেসবুক আইডি থেকে ছবিটি ‍প্রকাশের পর অনেকেই তাদের টাইমলাইনে রানা হামিদের শাস্তি দাবি করে ছবিটি শেয়ার করেছেন।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি বদ্ধ ঘরে বিছানার উপর বাম হাতে মোবাইল আর ডান হাত বিছানায় ভর দিয়ে  মুখে নল দিয়ে ইয়াবা সেবন করছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ। পাশে বিছানায় পত্রিকার উপর পড়ে আছে কয়েকটি ফয়েল পেপার। বাম হাতে ফয়েল পেপার আর ডান হাতে লাইটার ধরে রানা হামিদকে ইয়াবা সেবনে সহযোগিতা করছেন সাবেক গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক সোহেল।

ছবিটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার ‍সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন  সেই সাথে নানা মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে জেলা ছাত্রলীগের এক সদস্য  সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এ ধরণের গুটি কয়েক মানুষের জন্য ছাত্রলীগের ‍সুনাম নষ্ঠ হতে পারেনা। বহু ইতিহাস ঐতিয্যের ছাত্রলীগ এধরনের নেতৃত্বের হাতে থাকলে একটা ‍সময় ছাত্রলীগকে মানুষ ঘৃনা করবে বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ শহরের আরাপপুরের বাসায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবন ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ইয়াবা সরবরাহ করে আসছেন। এর আগে অনেকবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থাকবার কারণে  শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেয়েছে সে।

এ বিষয়ে কথা বলতে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, এটা সম্পূর্ণ এডিট করা ছবি। আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় ও লাঞ্ছিত করার জন্যই একটি কুচক্রী মহল এ কাজটি করেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে একটি মহল রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করতে উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন,দেখুন আমাদের কমিটি মেয়াদ অনেক দিনের, নতুন কমিটি দেয়ার জন্য আমরা সম্প্রতি কেন্দ্রে আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছি। এ ভিত্তিতে বর্তমান কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী ভাই প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে যে যদি কমিটির কাউকে নিয়ে জেলার কারোর যদি কোন অভিযোগ থাকে এবং কোন পরামর্শ থাকে সে ব্যাপারে মতামত দেয়ার জন্য। এ সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে সেই কুচক্রী মহল। আমার ছবি এডিট করে আমার নাম দিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছে সামাজিক নানা মাধ্যমে।

রানা হামিদ বলেন, এ বিষয়ে আজ শনিবার সকাল ১১:৩০ মিনিটে আমি ‍সংবাদ সন্মেলন করেছি। গতকাল জেলা, উপজেলা ছাত্রলীগকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাছারা আমি তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

যদিও বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখছে না কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আমাদের কানেও বিষয়টি এসেছে। যদি ঘটনা সত্য হয় তবে সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।