গোপালগঞ্জে বিনাচিনাবাদাম হাসি ফুটিয়েছে কৃষকের মুখে

১২:৫৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুলাই ১, ২০১৯ ফিচার

এইচ এম মেহেদী হাসানাত, ষ্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ- গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত লবণাক্ততা সহনশীল ও উচ্চ ফলনশীল চিনাবাদামের জাত বিনা চিনাবাদাম-৬ কৃষকের মুখে হাঁসি ফুঁটিয়েছে।

প্রতি হেক্টরে এ জাতের বিনাচিনাবাদাম ২.৮৫ টন উৎপাদিত হয়েছে বলে গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র জানিয়েছে। মার্চ মাসে গোপালগঞ্জের পানিতে লবণ চলে আসে। আর এ লবণে বাদামের ক্ষেত আক্রান্ত হয়ে গত ৩/৪ বছর ধরে বাদামের ফলনে বিপর্যয় নেমে আসছে। এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এবার বিনার লবণাক্ততা সহনশীল বাদামের জাত আবাদ করে কৃষক প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ফলন পেয়ে লাভবান হয়েছেন। তাদের মুখে হাঁসি ফুঁটিয়েছে বিনা’র এ বাদাম।

গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র জানিয়েছে, সদর উপজেলার মানিকহার গ্রামের ৪ একর জমিতে এ বছর প্রথম ১০টি প্রদর্শনী প্লটে কৃষক লবণাক্ততা সহনশীল বিনাচিনাবাদাম-৬ আবাদ করেন। প্রচলিত বাদাম হেক্টরে ১.৪ টন উৎপাদিত হয়। কিন্তু লবণাক্ততা সহনশীল বিনাচিনাবাদাম-৬ ২.৮৫ টন উৎপাদিত হয়েছে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষক মোঃ মফিজুর রহমান ও মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, মার্চ মাসে মধুমতি নদীতে লবণ চলে আসে। এ লবণে বাদাম ক্ষেত আক্রান্ত হয়। বাদাম গাছের গোড়া পচে যায়। গাছ টান দিলে শুধু গাছ উঠে আসে। শেকড়ে বাদাম থাকেনা। এভাবে লবণাক্ততার কারণে বাদাম আবাদ করে ৩/৪ বছর ধরে লোকসান হচ্ছিলো। ফলনে বিপর্যয় ঘটেছে। এবার বিনাচিনাবাদাম-৬ আবাদ করে হেক্টরে ২.৮৫ টন ফলন পেয়ে লাভবান হয়েছি। এ বাদামের দামও ভালো পেয়েছি। আমাদের দেখাদেখি আগামীতে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের কৃষক এ জাতের বাদাম আবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বিনাচিনাবাদাম-৬ এর উদ্ভাবক বিজ্ঞানী ড. মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ জাত জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে উচ্চ ফলন দিতে সক্ষম। সে ভাবেই এ জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। কৃষক নীবিড়ভাবে এ জাতের আবাদ করে আরো বেশি ফলন পেতে পারেন। এ জাত সম্প্রসারিত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।

বিনার সিসিটিএফ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিনার সিসিটিএফ প্রকল্পের আর্থায়নে গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র এ বছর প্রথম লবণাক্ততা সহনশীল ও উচ্চ ফলনশীল চিনাবাদামের জাত বিনাচিনাবাদাম-৬ এর মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনী স্থাপন করেছে। এতে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। আমরা কৃষককে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝঁুকি মোকাবেলায় উপযোগী করে গড়ে তুলতেই বিনা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল জাত মাঠে চাষাবাদ করাচ্ছি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা অধিশাখার যুগ্মসচিব বলাই কৃষ্ণ হাজরা বলেন, আমি লবণাক্ততা সহনশীল বিনাচিনাবাদম-৬ এর ক্ষেত পরিদর্শন করেছি। লবণাক্ততাকে জয় করে কৃষক বাদামের বাম্পার ফলন পেয়েছে। এটি আমাদের কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

বিনার মহাপরিচালক ড.বীরেশ কুমার গোস্বামী বলেন, বিনা উদ্ভাবিত ধান, তৈলবীজ, গম, ডালসহ বিভিন্ন ফসলের জাত প্রচলিত জাতের তুলনায় দুই থেকে তিনগুন ফলন দেয়। বিনার জাত আবাদ করে কৃষক যেমন লাভবান হন, তেমনি দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তাই বিনার উদ্ভাবিত জাত সম্প্রসারণ ও আবদের কলাকৌশল নিয়ে কৃষকের সাথে আমরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছি।