ব্যবসায়ীকে বিজিবি কর্তৃক মারধরের ঘটনায় ৩ ঘন্টা বন্ধ ছিল আমদানি-রফতানি

৮:২৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুলাই ১, ২০১৯ খুলনা

মহসিন মিলন, বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল স্থল বন্দরে কামাল হোসেন নামে এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীকে বিজিবি কর্তৃক মারধরের প্রতিবাদে ৩ঘন্টা বন্ধ ছিল দুদেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য।

সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে বেনাপোল স্থল বন্দরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। কামাল হোসেন সি অ্যান্ড এফআর.কে এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মজিবুর রহমান জানান, ব্যবসায়িক কাজে কামাল হোসেন বেনাপোল চেকপোস্টে অবস্থান করেছিলেন। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত বিজিবির নায়েক জিল্লুর রহমান তার পরিচয় জানতে চায়। কামাল নিজেকে একজন সিএন্ড এফ ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক পরিচয় দিলেই তাকে বেধরকভাবে পিটিয়ে জখম করে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও বেনাপোল থেকে জিল্লুর রহমানকে প্রত্যাহারের দাবিতে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রেখেছে ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুলফিক্কার আলী মন্টু বলেন, কামাল হোসেন সিঅ্যান্ডএফ আর.কে এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক তাকে কর্তব্যরত বিজিবির নায়েক জিল্লুর রহমান কর্তৃক মারধরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এহেন জঘন্য আচারনের জন্য বিজিবির ঐ কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবি করেন তিনি।

পরে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশন মিলনায়তনে বন্দর ব্যবহারকারী  বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ সভাপতি আলহাজ্ব নুরুজ্জামান‘র সভাপেিত্ত্ব বক্তব্য রাখেন, আলহাজ্ব শামসুর রহমান,খাইরুজ্জামান মধু, কামালউদ্দিন শিমুল, এমদাদুল হক লতা, আলহাজ্ব নাসির  উদ্দিন,আলমগীর সিদিদকী, ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন।

বেনাপোল চেকপোস্ট আইসিপি ক্যাম্পের সুবেদার বাকি বিললাহ জানান, ওই ব্যবসায়ী চেকপোস্টে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় তাকে দূরে সরে যেতে বললে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেননি তিনি। এতে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল জানান, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বাণিজ্য সচল করা হয়েছে। এদিকে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় দুই দেশের বন্দরে কয়েকশ পণ্য বোঝাই ট্রাক আটকা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেশির ভাগ শিল্প কারখানার যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল।

তবে বিজিবির সিও তাৎক্ষনিকভাবে বিজিবির সৈনিককে প্রত্যাহার করে নিলে  পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। পরে বিকেল ৩ টার দিকে  আন্দোলনকারীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলে পুনরায় শুরু হয় আমাদনি রফতানি।