মৌলভীবাজারে মূর্তি চুরি করে মন্দির ও অফিস ভাংচুর ঘটনায় ১ জন গ্রেফতার

৮:৫৩ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুলাই ১, ২০১৯ সিলেট

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:  মৌলভীবাজারে শ্রী ভৈরব দেবস্থান জবরদখলে নিতে শ্রী ভৈরব দেবতার মূর্তি চুরি করে মন্দির ও মন্দির কমিটির অফিস ভাংচুর ঘটনায় ১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পলাতক থাকা অপর ১০/১২ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ষ্পর্শকাতর এ ঘটনায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা (নং- ৩০, জিআর- ১৮৪, তাং-২৯/০৬/২০১৯ইং) দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে আজ ১ জুলাই সোমবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য নেছার আহমদ জেলা পুজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় সনাতন ধর্মবলম্বীদেরকে শান্তনা দিয়ে বলেন- এ শ্রী ভৈরব দেবস্থানের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠার জন্য সরকারী বরাদ্ধের ব্যবস্থা করব। আপনারা আরও সুন্দর করে এখানকার সবকিছু পুণর্নিমান করবেন। এসময় সেখানে উপস্থিত মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসিকে চুরি যাওয়া শ্রী ভৈরব দেবতার মূর্তি উদ্ধারে জোর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য।

উল্লেখ্য- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২নং গিয়াসনগর ইউনিয়নস্থিত কদুপুর গ্রামের মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সড়ক সংলগ্ন ৩৪ শতক ভূমিবিশিষ্ট শ্রী ভৈরব দেবতার মূর্তিসহ একটি মন্দির, দেবস্থানসহ মন্দির রক্ষণাবেক্ষণ ও শ্রী ভৈরব দেবতার পূজা উদযপনের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্দির কমিটির অফিসগৃহ এবং বিভিন্ন প্রজাতীর গাছ-গাছালী সমৃদ্ধ প্রায় শতবর্ষী শ্রী ভৈরব দেবস্থান জবরদখলে নিতে ভূমিখেকো চক্রের প্রধান ৭নং চাদনীঘাট ইউনিয়নস্থিত ইসলামপুর গ্রামের হামদু মিয়ার পুত্র মঈনুল হোসেন বাবর ও তার ১০/১২ জন অজ্ঞাত পরিচয় সহযোগীদের কে নিয়ে গত ২৯ জুন শনিবার দুপুরে দেবস্থানে মন্দিরের ভিতরের মূল পূজাস্থলে প্রবেশ করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত পূর্বক শ্রী ভৈরব দেবতার মূর্তিটি অক্ষত রেখে সেমিপাকা মন্দিরটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় এবং মন্দির কমিটির অফিসে প্রবেশ করে পূজার কাজে ব্যবহৃত থালা-বাসন ইত্যাদি লুট করে অফিসগৃহটিও ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়।

এরপর পূজার কাজে ব্যবহৃত থালা-বাসন ইত্যাদিসহ সিমেন্টের তৈরী শ্রী ভৈরব দেবতার মূর্তিটি অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নিয়ে জবরদখল চেষ্টাকারীরা দেবস্থানে অবস্থান নেয়। এসময় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী লোকজন এগিয়ে আসলে জবরদখল চেষ্টাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন পূর্বক তাদেরকে খুন করার হুমকী দেয়। এমতাবস্থায় তারা ঘটনাটি মৌলভীবাজার জেলা পূজা উদযাপণ পরিষদ নেতৃবৃন্দকে অবহিত করলে জেলা পূজা উদযাপণ পরিষদ ঘটনাটি মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে জবরদখল চেষ্টাকারীরা গা-ঢাকা দেয়।

এরপর বিকাল ৫টার দিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, জেলা পূজা উদযাপণ পরিষদ নেতৃবৃন্দ ও মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং স্থানীয় লোকজনের কাছে ঘটনার বিবরণ শোনেন।

পুলিশ জবরদখল চেষ্টাকারী চক্রের প্রধান মঈনুল হোসেন বাবরকে গ্রেফতার করে। পরে রাত ১টার দিকে পুলিশ বাবরকে নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পরদিন ৩০ জুন রোববার পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ বাবরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এরপর আজ ১ জুলাই সোমবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য নেছার আহমদ জেলা পুজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।