সংবাদ শিরোনাম
প্রেমপত্র দিতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি! | মসজিদের বারান্দায় পড়াশোনা করছেন মুশফিক! | ফেলে দেওয়া নবজাতক শিশুকে ড্রেন থেকে টেনে তুলে প্রাণ বাঁচালো কুকুর | ঠাকুরগাঁওয়ে ফেন্সিডিল সেবনের সময় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার | পদ্মায় গোসল করতে গিয়ে ভেসে গেল নবদম্পতি! | বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নারী হত্যার ঘটনায় আটক ৩ | বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নারী হত্যার ঘটনায় আটক ৩ | ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলার প্রস্তুতি | ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্যই প্রিয়া সাহা মিথ্যাচার করেছেন: পূর্তমন্ত্রী | নবীগঞ্জে কলেজছাত্রীকে উত্যক্ত করার অভিযোগে যুবকের ৬ মাসের কারাদন্ড |
  • আজ ৭ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কাঁঠালের গুনাগুণ ও পুষ্টি উপাদান

৯:০৬ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, জুলাই ৩, ২০১৯ লাইফস্টাইল

লাইফস্টাইল ডেস্ক- আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালেরও রয়েছে নানা গুণাবলী।

কাঁঠাল একটি সুস্বাদু রসালো ফল। এর রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা। কাঁঠালের উপকারিতা সম্পর্কে কথা বলেন বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান-এর বিভাগীয় প্রধান ফারাহ মাসুদা।

তিনি বলেন, “নানান পুষ্টিগুণে ভরপুর কাঁঠাল। কাঁঠালে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, বি-১, বি-২, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ নানা রকমের পুষ্টি ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এই সকল উপাদান আমাদের শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি ভিটামিনের চাহিদাও পূরণ করে কাঁঠাল।”

কাঁঠালে বিদ্যমান বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান কাঁঠালে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন যা দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখে, দাঁত ও হাড় সুস্থ রাখে, ত্বক সুন্দর করতে সাহায্য করে।

কাঁঠালে সামান্য পরিমাণ প্রোটিনও পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠালে ১.৮ গ্রাম, কাঁচা কাঁঠালে ২০৬ গ্রাম ও কাঁঠালের বীজে ৬.৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এই প্রোটিন দেহের গঠনে সাহায্য করে।

কাঁঠালে রয়েছে শ্বেতসার। পাকা কাঁঠালে ০.১ গ্রাম, কাঁচা কাঁঠালে ০.৩ ও কাঁঠালের বীজে ০.৪ গ্রাম শ্বেতসার পাওয়া যায়।

কাঁঠালে ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়। ‘এ’ ভিটামিন দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। কাঁঠালের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান চোখের রেটিনার ক্ষতি প্রতিরোধ করে।

কাঁঠালে ভিটামিন বি-১ ও বি-২ পাওয়া যায়। পাকা কাঁঠালে ০.১১ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ০.৩ মি.গ্রা ও কাঁঠালের বীচিতে ১.২ মি.গ্রা বি-১ পাওয়া যায়।

পাকা কাঁঠালে ০.১৫ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ০.৯ মি.গ্রা এবং কাঁঠালের বীচিতে ০.১১ মি.গ্রা বি-২ পাওয়া যায়।

কাঁঠালে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’ । পাকা কাঁঠালে ২১ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ১৪ মি.গ্রা এবং কাঁঠালের বীজে ১১ মি.গ্রা ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়, জানিয়েছেন ফারাহ মাসুদা।

তিনি আরও বলেন, ভিটামিন ‘সি’ শরীরকে নানা রকম ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস থেকে রক্ষা করে। তাছাড়া এই ভিটামিনটি সর্দি-কাশি ও জ্বর প্রতিরোধ করে। এটি ত্বক, দাঁত ও হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখে। এছাড়াও ভিটামিন ‘সি’ এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে নানা রকম ক্ষতি থেকে রক্ষা করে ।

কাঁঠালে কিছু পরিমাণ আয়রন পাওয়া যায়। পাকা কাঁঠালে আয়রনের পরিমাণ ০.৫ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ১.৭ মি.গ্রা এবং বীজে ১.৫ মি.গ্রা। চাহিদা অনুযায়ী আয়রন গ্রহণ করে পেটের অসুখ, সংক্রামক রোগ, যেমন— ম্যালেরিয়া, কৃমি, আলসার, রক্ত আমাশয় ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কাঁঠালে রয়েছে পটাশিয়াম যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাছাড়া সঠিক পরিমাণে কাঁঠাল খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকিও অনেকটা কমে যায়।

কাঁঠাল কার্বোহাইড্রেটের একটি অন্যতম উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল থেকে ৪৮ কিলোক্যালরি, কাঁচা কাঁঠাল থেকে ৫৩ কিলোক্যালরি এবং কাঁঠালের বীজ থেকে ১৩০ কিলোক্যালরি পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়। তাই শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান কাঁঠাল থেকে পাওয়া সম্ভব বলে জানান ফারাহ মাসুদা।

কাঁঠালের শর্করা, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ দ্রুত শক্তির যোগান দেয়। এতে কোলেস্টেরল জাতীয় উপাদান না থাকায় যেকোনো বয়সের মানুষই কাঁঠাল খেতে পারেন।

কাঁঠালে প্রচুর পরিমানে ক্যারোটিন পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে ৪৫০ মাইক্রোগ্রাম এবং বীজে ১০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন পাওয়া যায়।

এছাড়াও প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে রয়েছে ০.৩ মি.গ্রা থায়ামিন, ০.১৩ মি.গ্রা রিবোফ্লাভিন।

কাঁঠালের হলুদ ও রসালো অংশে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধোক উপাদান। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেরও একটি ভালো উৎস।

কাঁঠাল হজমে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিহত করে।

কাঁঠাল ত্বকের বলিরেখা বা বয়সের ছাপ কমাতে সহায়তা করে বলে জানালেন ফারাহ মাসুদা। কাঁঠালের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বয়ঃবৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর করে ফলে ত্বকে বয়সের ছাপ দেখা যায় না। তাই ত্বকের বয়স ধরে রাখতে অর্থাৎ চেহারায় লাবন্য দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য কাঁঠাল খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

“কাঁঠালে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম যা হাড় ও দাঁতের জন্য বিশেষ উপকারী।

কাঁঠালের নানা রকম খনিজ উপাদান শরীরের নানা রকম গ্রন্থি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কাঁঠালের কপার নামক খনিজ উপাদান থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক হরমোন তৈরির ক্ষমতা বজায় রাখে। কপার মানুষ দুঃশ্চিন্তা ও অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে।

কাঁঠালে রয়েছে ডায়েটারি ফাইবার। এটি মলাশয় থেকে বিষাক্ত উপাদান অপসারণ করে। ফলে মলাশয়ের ওপর কোন রকম বিষাক্ত উপাদানের ক্ষতিকর প্রভাব পরে না। এইভাবে কাঁঠাল মলাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ।