গৃহবধূর ঘরে ঢুকে জাপটে ধরে বিছানায় শোয়ার চেষ্টা মাদ্রাসা শিক্ষকের!

১১:২৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, জুলাই ৩, ২০১৯ দেশের খবর, রংপুর

সময়ের কণ্ঠস্বর, নীলফামারী :: নীলফামারীর ডিমলায় ৪০ বছর বয়সী গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আব্দুল হান্নান (৫০) নামে মাদ্রাসার এক প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১ জুলাই) রাতে উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ‍বাংলাপাড়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মঙ্গলবার (২ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।গ্রেফতার আব্দুল হান্নান একই ইউনিয়নের মৃতঃ আব্দুল সামাদের ছেলে। হান্নান ছাতনাই শহিদুল্লাহ্ বালিকা ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও হোমিও প্যাথিক গ্রাম্য চিকিৎসক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাপাড়া গ্রামের ৪ সন্তানের এক জননীকে ভাল লেগে যায় মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল হান্নানের। আব্দুল হান্নানও দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।সেই ভাললাগা থেকে বেশ কিছুদিন ধরে মোবাইল ফোনে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো লম্পট হান্নান। গত (৩০ জুন) রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় সুযোগ বুঝে সবার অজান্তে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে ওই গৃহবধুর ঘরে ঢুকে তাকে জড়িয়ে ধরে বিছানায় শোয়ার চেষ্টা করে হান্নান।

এসময় নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে ওই গৃহবধু আর্তচিৎকার করলে বাড়ির লোকজন বেরিয়ে এসে হান্নানকে হাতে-নাতে ধরে আটক করে এবং খাটের সাথে দঁড়ি দিয়ে সারা রাত বেঁধে রাখে।এ ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পূর্বছাতনাই ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, অভিযুক্ত হান্নান এর পূর্বেও একাধীক নারীর সাথে যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন।

সেসব ঘটনায় ইউনিয়নের চেয়াম্যান, ইউপি সদস্য, গণ্যমান্য বক্তিবর্গর মাধ্যমে গ্রাম্য সালিশ, বৈঠক ও অর্থদন্ড এবং মুচলেকাও নেয়া হয় তার কাছ থেকে। কিন্তু সে ফের একই কাজ করেছে।পূর্বছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, এর পূর্বে কয়েকবার হান্নানের যৌন হয়রানীর কান্ড গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছিল। কিন্তু তার যে স্বভাব তাতে আমরা হতাশ। তাই তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছি।

পরে গৃহবধু নিজে বাদী হয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ এনে লম্পট হান্নানের বিরুদ্ধে ডিমলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মফিজ উদ্দিন শেখ বলেন, আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৯ (৪) (খ) ধারায় মামলা হয়েছে। যার মামলা নং-২। তারিখ: ১/৭/১৯। মঙ্গলবার দুপুরে আসামীকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।