মৌসুমে দেখা নেই রূপালী ইলিশের

৭:০২ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুলাই ৩, ২০১৯ ফিচার

এস আই মুকুল, নিজস্ব প্রতিবেদক- ভোলার চরফ্যাসনে মৌসুমেও দেখা নেই রূপালী ইলিশের। আষাঢ়-শ্রাবন-ভাদ্র মাস ইলিশ ধরার ভরা মৌসুম। জেলে পল্লীতে ইলিশের সরগরম থাকার কথা থাকলেও মৎস্য আড়ৎগুলো শূন্য।

এর ফলে অভাব অনটন আর দাদনের দুশ্চিন্তায় জেলেদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। চরফ্যাসনের মেঘনা-তেঁতুলিযা নদীতে রাত-দিন নদীর এপার-ওপার জাল ফেলেও মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশ।

বুধবার অপরাহ্নে ইলিশ বাড়ী খ্যাত ভোলার চরফ্যাসনে বৃহৎ মৎস্য আড়ৎ ঘুরে জেলেদের সাথে আলাপকালে জেলেরা জানান, প্রতি বছর এ সময় নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পরে। এসময়কালে নদীতে ইলিশ শিকার করে তা বাজারে বিক্রি করে মহাজন, পাওনাদারের টাকা ও ঋনজিওর ঋনের টাকা পরিশোধ করতে শুরু করে জেলেরা। কিন্তু এবছর বর্ষা মৌসুম ও ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হলেও এখনও নদীতে ইলিশের দেখা পাচ্ছেনা তারা।

সামরাজের দুলাল মাঝি জানান, এবছর ভরা মৌসুমে ইলিশা ধরার জন্য এননজিও ও মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে ট্রলার ও জাল কিনেছি। ভরা মৌসুমে মেঘনা নদীতে জাল ফেলে ২/৩ টি ইলিশ ধরা পড়েছে। সাগরে ইলিশ শিকারে গেলে ২ সপ্তাহের জন্য এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয় আর নদীতে দৈনিক ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়।

বকশী ঘাটের তুহিন হাওলাদার জানান, গত বছর এসময় তেতুলিয়া নদীতে অনেক ইলিশের ছড়াছড়ি ছিল। নদীতে আশানুরুপ মাছ না থাকায় জেলে ও তাদের পরিবার ঋণের বোঝায় জর্জরিত। তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ মাছ না পরায় জেলার প্রতিটি মৎস্য ঘাটগুলোতে আড়াৎদাররা অলস সময় পার করছে।

চরফ্যাসন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে নদীতে ইলিশের পরিমান খুবই কম। বৃষ্টির পরিমান বাড়ার সাথে সাথে নদী ও সাগরে ইলিশের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও আগামী আগষ্টের মাঝামাঝি সময় নদীতে ইলিশের পুরো ভরা মৌসুম শুরু হবে। তখন জেলেরা নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাবে।