নয়নবন্ড একদিনে তৈরি হয়নি, আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড পছন্দ করি না: হাইকোর্ট

২:২৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুলাই ৪, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বরগুনার নয়নবন্ড একদিনে তৈরি হয়নি, তাকে কেউ না কেউ লালন-পালন করে সন্ত্রাসী বানিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। এ সময় আদালত আরও বলেন, আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যা পছন্দ করি না।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) রিফাত হত্যা মামলায় বরগুনা জেলা প্রশাসক ও পুলিশের প্রতিবেদন তুলে ধরলে এই মন্তব্য করেন বিচারপতি এফআরএম নাজমুল হাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার আদালতকে সর্বশেষ আসামি গ্রেফতারের অবস্থা সম্পর্কেও জানান।

আইনজীবী জানান, এ মামলায় ১২ আসামির মধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এজাহারের বাইরেও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার মূল আসামি যিনি নয়ন বন্ড নামে পরিচিত তাকে ধরার সময় তিনি পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন।

এসময় আদালত বলেন, কিভাবে মারা গেল? তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, পুলিশের কাছে গোপন সংবাদ ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ধরতে গেলে সে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পাল্টা গুলি ছুড়লে তিনি মারা যান।এ সময় আদালত আরও বলেন, আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যা পছন্দ করি না।

এর আগে গত ২৭ জুন এই অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা যাতে দেশ ত্যাগ না করতে পারে, সে জন্য সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

ওই দিন সকালে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনলে হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ২৬ জুন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়ে কলেজ থেকে ফেরার পথে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ একদল যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো দা দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। রিফাতের স্ত্রী আয়শা হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন; কিন্তু তাদের থামানো যায়নি। তারা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিফাতের মৃত্যু হয়।

এ হত্যার ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বৃহস্পতিবার সকালে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মামলার ২ নম্বর আসামি রিফাত ফরাজী (২৩), ৪ নম্বর আসামি চন্দন (২১), ৯ নম্বর আসামি মো. হাসান (১৯), ১১ নম্বর আসামি মো. অলি উল্লাহ অলি (২২), ১২ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয় (২১),মো. নাজমুল হাসান (১৯), তানভীর (২২), মো. সাগর (১৯), কামররুল হাসান সাইমুন (২১) ও রাফিউল ইসলাম রাব্বি।