• আজ ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইউরোপের প্রথম পরিবেশবান্ধব মসজিদ ক্যামব্রিজে

১০:৫৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুলাই ৪, ২০১৯ আন্তর্জাতিক
mosque

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় ক্যামব্রিজ শহরে উন্মুক্ত হলো ইউরোপের প্রথম ইকো বা পরিবেশবান্ধব মসজিদ। এরিমধ্যে এটি ইউরোপের সর্বাধিক ব্যয়বহুল মসজিদ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মসজিদটির বিশেষত্ব হলো এটি পরিবেশবান্ধব। এতে ব্যবহৃত উপকরণ থেকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ শূণ্যের কোটায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

২০০৮ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের অধ্যাপক ড. টিমোথি উইন্টার মসজিদটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এরপর শুরু করেন তহবিল সংগ্রহের কাজ। লন্ডনের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নির্মিত হওয়ায় মসজিদটির নাম দেয়া হয়েছে নিউ ক্যামব্রিজ মসজিদ। মসজিদটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ২৪ মিলিয়ন ডলার।

নিউ ক্যামব্রিজ মসজিদের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান টিমোথি উইন্টার বলেন, মসজিদটিতে দিনের বেলা ইলেক্ট্রিসিটি ব্যবহারের দরকার হয় না। কারণ এখানে প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের ব্যবস্থা আছে। মসজিদের ছাদে বৃষ্টির পানি প্রক্রিয়াজাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে ভেতরে বেশ ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। রাতের জন্য ইলেক্ট্রিসিটি ব্যবহৃত হলেও, তা চলে সোলার প্যানেলের সাহায্যে। ইটের পিলারের বদলে ১৬টি গাছের কলাম ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রায় আট বছরের গবেষণা শেষে, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সবুজ সমারোহের আদলে তৈরি করা হয় এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

মসজিদে একসঙ্গে এক হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবেন। এছাড়া জনকল্যাণমূলক নানা সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। স্থানীয় মুসলিম ও অমুসলিমদের সেমিনার আয়োজনের ব্যবস্থাও রয়েছে। রয়েছে শিশুদের জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।

ইমাম সাজেদ মেকিক বলেন, আন্ত-ধর্মীয় আলোচনার ব্যবস্থা থাকছে। এতে কোরে সব ধর্মের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। অন্যদের প্রতি সহায়তার হাত ও বোঝা পড়া বাড়াতে এই উদ্যোগ বেশ উপকারী। নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মসজিদের নকশা করেছেন লন্ডনের প্রখ্যাত ইকো আর্কিটেকচারার মার্ক বারফিল্ড। চত্বরের সৌন্দর্য বর্ধনে কাজ করেন বিখ্যাত শিল্পী ইম্মা ক্লার্ক।

ইউরোপের প্রথম ইকো মসজিদ নির্মাণে এগিয়ে আসে ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়ার বেশকটি দেশ। এটি নির্মাণে মোট খরচের প্রায় দুই তৃতীংশ খরচ করে তুরস্ক।

Loading...