নির্মাণের বছরেই ভেঙ্গে গেলো ব্রীজ!

৬:০৬ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জুলাই ৫, ২০১৯ রংপুর

ফয়সাল শামীম:স্টাফ রিপোর্টার:কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় নির্মাণের বছরেই দেবে গেছে ত্রাণ ও পুর্নবাসন মন্ত্রনালয়ের পায় ২৭ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত একটি ব্রীজ। এলাকাবাসীর দাবী নিন্মামানের সামগ্রী ব্যবহারই ব্রীজ ভাঙ্গার অন্যতম কারন। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাদের দাবী বিলের প্রশস্ততা অনুযায়ী ব্রীজের আয়তন ছোট হওয়ায় বন্যার পানির তোড়ে দেবে গেছে ব্রীজটি। এ অবস্থায় ৪ বছর ধরে যাতায়তের দুর্ভোগে পড়েছে ওই এলাকার ২০টি গ্রামের মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালে উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি বাজার হতে জনতারহাট সড়কের সাকোর পাড় বিলের উপর ত্রাণ ও পুর্নবাসন মন্ত্রনালয়ে অর্থায়নে ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি ব্রীজ নির্মান করা হয়। প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত ব্রীজটি বন্যার পানির তোড়ে সে বছরই ভেঙ্গে যায়। ব্রীজটি নির্মাণ করে মেসার্স হামিদ ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এতে করে যোগাযোগ বিচ্ছিন হয়ে পড়ে বুড়াবুড়ি ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ। পরে এলাকাবাসী নিজ উদ্দ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ব্রীজের দুপাশে পায়ে হেটে চলাচলের ব্যবস্থা করে।

সম্প্রতি ব্রীজের পাশে দাড়ালে দেখা যায়, মটর সাইকেল থেকে নেমে হাত দিয়ে ঠেলে ব্রীজ পাড় হচ্ছেন বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের শামছুজ্জামান মিয়া। জরুরী কাজে বুড়াবুড়ি বাজার থেকে জনতা বাজারে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু এই ব্রীজটির উপর দিয়ে মোটর সাইকেলে চরে পাড় হওয়া খুবই কঠিন বলে হাত দিয়ে ঠেলে ব্রীজ পাড় করছেন।

এসময় শামছুজ্জামান মিয়া জানান, ২০১৫ সালে সাঁকোর পাড় এলাকায় ত্রাণ শাখার নির্মিত এই ব্রীজটি সে বছরই বন্যার সময় দেবে যায় আর দুপাশের মাটি সরে যায়। এ অবস্থায় এই রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী মিলে কিছু টাকা চাঁদাহারি করে দিয়ে বাঁশ, কাঠ কিনে ব্রীজের দুই দিকে সংযোগ করে দেয়া হয়েছে। এতে করে ব্রীজের উপর দিয়ে কোন রকমে পাড়াপাড় হওয়া যায়। এই রাস্তা দিয়ে না গিয়ে অন্যা রাস্তায় গেলে অনেক ঘুরে আসতে হয় বলেই এদিক দিয়েই আসলাম।
সাঁকোর পাড় ব্রীজ এলাকার রেজাউল করিম জানান, যখন এখানে ব্রীজটি হয় তখন চাঁদ চেয়ারম্যান ছিল। এখানকার স্থানীয় বালু দিয়ে ব্রীজটি কাজ করায় আমরা এলাকাবাসী বাঁধা দিয়েছিলাম কিন্তু আমাদের কথায় কোন কাজ হয়নি। বরং সে সময় চেয়ারম্যান এসেও ঠিকাদারের পক্ষ নিয়েছিল। এজন্য যেভাবে পারছে কাজ করে চলে গেছে। আর কয়েক মাসের মাথায় ব্রীজটিও ভেঙ্গে গেছে।

এলাকাবাসী জানায় এই সড়কটি সাঁকোরপাড় গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। কেন না এই সড়কে ব্রীজের উপর দিয়েই এই সব এলাকার ছাত্র/ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে যায়। এছাড়া এই ব্রীজের উপর দিয়ে স্থানীয় মানুষজন তাদের ধান চালসহ কোন মালপত্র বহন করতে পারছে না। ফলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাদের তাদের উৎপাদিত পন্য বাজারে নিয়ে যেতে হয়। ব্রীজটি নির্মাণ করা খুবই জরুরী বলে জানান এলাকাবাসী।

উলিপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: রবিউল ইসলাম জানান, ত্রাণ শাখার এ ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়েছে ২০১৫ সালে আর আমি এখানে এসেছি এক বছর হয়। আমি কিছু দিন আগে ভাঙ্গা ব্রীজটির কথা শুনে ঐ এলাকায় যাই। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলি। ব্রীজের কাজ ভালো হয়েছে না খারাপ হয়েছে তা বলতে চাই না। তবে আমার মনে হয়েছে বিলের আয়োতনের চেয়ে ব্রীজের দৈর্ঘ কম হওয়াই বন্যার পানির স্রোতে ব্রীজটি দেবে গেছে। যেহেতু ঐ বিলের উপর ৬০ থেকে ৭০ফুট দৈর্ঘের ব্রীজের দরকার হবে এবং ত্রাণ শাখার অত বড় দৈর্ঘের ব্রীজ নেই সেহেতু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঐ এলাকায় অন্য কোন বিভাগের মাধ্যমে ব্রীজ নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছি।

ব্রীজটি নির্মাতা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্রীজটি শুধু জামানতের টাকা দেয়া হয়নি। তাছাড়া পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আমি সে সময়কার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো:আনিছুর রহমানের সাথে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন সে সময় ইউপি চেয়ারম্যানের পীড়াপীড়িতে ব্রীজটি সেখানে নিমাণ করা হয়েছিল। কাজ খারাপ হয়নি বন্যার প্রবল পানির তোড়ে ব্রীজটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:আব্দুল কাদের জানান, আমি বিষয়টি জানার পর খোঁজ খবর নিচ্ছি। কেন ব্রীজটি নির্মাণের বছরেই ভেঙ্গে গেছে বা দেবে গেছে। এ বিষয়টা তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেয়া হবে।