সংবাদ শিরোনাম
শাকিব খানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা | র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমকে হাইকোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশ | লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির পেঁয়াজ কিনলেন মেয়র আরিফ! | পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে ধাক্কাধা‌ক্কি, পু‌লিশের ‘মিস ফায়ারে’ গু‌লি‌বিদ্ধ ২ | মাত্র ৭৫ হাজার টাকা হলে বাঁচতে পারে অসুস্থ সেহের বানু! | অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই, প্রসূতির মৃত্যু | মির্জাপুরে অর্ধগলিত অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার | শেরপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত | বগুড়ার শেরপুরে মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণে ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন | নতুন সড়ক আইনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ |
  • আজ ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জামালপুরের মেলান্দহে এখনও ভিজিএফের চাল পায়নি ৫৩ হাজার দুস্থ মানুষ

৩:২৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুলাই ৭, ২০১৯ দেশের খবর, ময়মনসিংহ

আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি- ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সুবিধাভোগী দুস্থদের তালিকা উপজেলা পরিষদে না পাঠানোয় জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৫৩ হাজার ৪০০ দুস্থ মানুষ এখনও ঈদুল ফিতরের ভিজিএফের চাল পায়নি।

দুস্থ মানুষের তালিকা প্রণয়নে ইউপি চেয়ারম্যানদের স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই অর্ধলাখেরও বেশি দুস্থ পরিবার ঈদের আগে ভিজিএফের চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিনামূল্যে চাল পাওয়ার আশায় দুস্থ মানুষ ঈদের আগে সপ্তাহজুড়ে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়াও নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও চালের হদিস পায়নি। অবশেষে তারা সরকারি চালের আশা ছেড়ে দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে-না খেয়ে কোনো মতে ঈদ কাটিয়েছে।

মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মেলান্দহ উপজেলার দুরমুট, কুলিয়া, মাহমুদপুর, নাংলা, নয়ানগর, আদ্রা, চরবানী পাকুরিয়া, ফুলকোচা, ঘোষেরপাড়া, ঝাউগড়া, শ্যামপুর ইউনিয়ন, মেলান্দহ ও হাজরাবাড়ি পৌরসভার জন্য ৯২৫.৯৯৫ মেট্রিক টন বিজিএফ চাল বরাদ্দ আসে। এসব চাল সব ইউপি চেয়ারম্যান ও মেয়ররা রোজার মাঝামাঝি সময়ে গুদাম থেকে উত্তোলন করে নিয়ে যান।

ঈদের আগেই অগ্রাধিকার তালিকার মাধ্যমে দুস্থদের মধ্যে মাথাপিছু ১৫ কেজি করে এসব চাল বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু ঈদের আগে ঝাউগড়া ইউনিয়ন ও মেলান্দহ পৌরসভার তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হলেও বাকি ইউনিয়ন ও পৌরসভার চাল দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। এতে ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৫২ হাজার ৪০০ দুস্থ মানুষের ভাগ্যে এখনও ঈদের বিজিএফ চাল জোটেনি।

মেলান্দহ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের ভূমিহীন অসহায় ষাটোর্ধ্ব রমিজা বেওয়া, আমিরন বেগম, অজিফা খাতুন, বৃদ্ধ রফিজল আক্ষেপ করে বলেন, ঈদের আগে চালের জন্য চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পাছে মেলা ঘোরাঘুরি করছি। কেউ এক ছটাক চাল বা টেকা কিছুই দেয় নাই। তাই পোলাপান লইয়া খাইয়া-না খাইয়া ঈদ পাড়ি দিছি। এহন হুনতাছি ওই চালের সিলিপ দিতাছে।

মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাজরাবাড়ী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও ১০ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান যথাসময়ে প্রকৃত দুস্থদের অগ্রাধিকার তালিকা না দিতে পারায় ঈদের আগে চাল বিতরণ সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যে তালিকা দেওয়া হয় তার চারভাগের তিনভাগই ভুয়া। যে কারণে দুস্থদের জন্য বিনামূল্যের এই বিজিএফ চাল বেশিরভাগই চলে যায় দুর্নীতিবাজ রিলিফ অফিসার বা ট্যাগ অফিসার, নেতা নামধারী ব্যক্তি, চেয়ারম্যান-মেম্বার ও কালোবাজারিদের পেটে। তাই এবার তালিকা প্রনয়নে চলছে শুদ্ধি অভিযান। এ ছাড়া তিনি নিজে উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ করবেন। এতে করে প্রকৃত দুস্থরাই তাদের ন্যায্য চাল পাবে। এরই মধ্যে চারটি ইউনিয়নের তালিকা পাওয়া গেছে। তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের পর খুব শীঘ্রই চাল বিতরণ শুরু করা হবে। তার মতে প্রকৃত দুস্থদের তালিকা তৈরিতে এবার একটু দেরিতে হলেও পরে সময় লাগবে না।

Loading...