সংবাদ শিরোনাম
ব্যস্ত সময় পার করছেন সাভার ও আশুলিয়ার প্রতিমা শিল্পীরা | অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী | পরকীয়া প্রেমিক নাতির পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন দাদি! | মাগুরায় যুবলীগ নেতার পিতার উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন | শিক্ষা দিবসে ইবি ছাত্র ইউনিয়নের র্যালি | আট দিনের আন্দোলনেও সুরাহা মেলে নি বাকৃবি শিক্ষার্থীদের | প্রকল্পের পণ্য কিনতে দাম নির্ধারণে সর্তক হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর | বাকৃবিতে জিটিআইয়ে কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী | নেত্রী পদে থাকতে বলেন থাকব, না বললে থাকব না: কাদের | প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে হবে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার হাসপাতাল |
  • আজ ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘কখনো ভাবিনি বিনা টাকায় দুই বোন পুলিশে চাকরি পাবো’

৩:১৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুলাই ৮, ২০১৯ দেশের খবর, সিলেট

মঈনুল হাসান রতন হবিগঞ্জ প্রতিনিধি- “বাবা মারা যাবার পর মা অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করাচ্ছেন। কখনো ভাবিনি বিনা টাকায় চাকরি পাবো। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আজ দুই বোন পুলিশে চাকরি পেয়েছি। জনগণের সেবায় নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখতে চাই।’ এই কথাগুলো কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগপ্রাপ্ত রুম রানী দেব।

সোমবার (৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা দুই বোনের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন- আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমভাগ গ্রামের দূর্গাচরণ দেবের মেয়ে রুমা রানী দেব ও রুনা রানী দেব। তারা বানিয়াচং সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজের ছাত্রী।

পুলিশ সুপার জানান, রুমা রানী দেব ও রুনা রানী দেব হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। সংসারে তাদের বাবা নেই। মা বাসন্তী রানী দেব বাসায় বাসায় কাজ করে মেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তারা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য হয়েছেন। মায়ের পরিশ্রমের ফল মিলেছে। জনগণের সেবায় দুই বোন নিজেদের নিয়োজিত রাখবে বলে আশাবাদী। কোনো দালাল বা টাকার বিনিময়ে নিয়োগ হয়নি তাদের। তারা অত্যন্ত হতদরিদ্র ও মেধাবী।

মা বাসন্তী রানী দেব জানান, পুলিশ বিভাগকে প্রথমে ধন্যবাদ জানাই। যারা বিনা টাকায় মেয়েদের চাকরি দিয়েছে। মানুষের বাসায় কাজ করে মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়েছি। তারা এক সঙ্গে চাকরি পেয়েছে। এর চেয়ে খুশির খবর কি হতে পারে।

হবিগঞ্জে দরিদ্র পরিবারের মেধাবীরা চাকরি পেলেন পুলিশে

হবিগঞ্জে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পেলেন ৩৪ জন নারীসহ ৯৭ জন। এদের মধ্যে অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- কারো বাবা কৃষক, কারো বাবা শ্রমিক, কারো বাবা আইসক্রিম বিক্রেতা, কেউ কলা বিক্রেতা, কারো বাবা মিস্ত্রী, কারো বিধবা মা শ্রমিকের কাজ করে সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার চেষ্টা করছেন। কেউ নিজেই টিউশনি করে বা শ্রমিকের কাজ করে বা ভ্যান চালিয়ে উপার্জনের মাধ্যমে লেখাপড়া করেছে।

অর্থনৈতিকভাবে তারা পিছিয়ে থাকলেও মেধার দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে। তাদের চোখে আছে দেশ সেবার স্বপ্ন। তারা অদম্য। শত বাঁধার মুখেও এগিয়ে যেতে চায়। তারা প্রধানমন্ত্রীর ব্রত সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হতে চায়।

রোববার (৭ জুলাই) বিকেলে জেলা পুলিশ লাইনে ৯৭ জনকে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ১ জুলাই হতে ৭ জুলাই পর্যন্ত তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ার পথ পরিক্রমা পাড়ি দিয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়- পুলিশ সদর দপ্তর হতে ২ জন পর্যবেক্ষক, সিলেট ও সুনামগঞ্জ হতে ২ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের সমন্বয়ে গঠিত নিয়োগ বোর্ডের শ্রম, ধৈয্য ও মেধার ফসল তারা।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা কনস্টেবল নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যেভাবে মেধা, যোগ্যতা, ন্যায় ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে বিভিন্ন কর্মস্থলে দেশের সাধারণ নাগরিকদের তারা যেন ন্যায় ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে সেবা প্রদান করেন।

এরমধ্যে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বাগ গ্রামের মৃত দুর্গা চরন দেব ও গৃহপরিচারিকা বাসন্তি রাণী দেবের দুই কন্যা রুনা রানী দেব ও রিমা রানী দেব। তারা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের লোক।

পুলিশ সুপার আরো জানান- চুনারুঘাট উপজেলার আব্দুর রহিমপুর গ্রামের দৃষ্টিহীন কদ্দুছ আলীর পুত্র সুমন আহমেদসহ ২ জন এতিম যুবককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এরমধ্যে ২০জন মুক্তিযোদ্ধা পুরুষ, ২৯ জন সাধারণ পুরুষ, অন্যান্য কোটায় ৯ জন। নারী কনস্টেবল ৩৪ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৪ জন, অন্যান্য কোটায় ১ জনসহ মোট ৯৭ জনকে নিয়াগ দেওয়া হয়েছে।