সংবাদ শিরোনাম
প্রেমপত্র দিতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি! | মসজিদের বারান্দায় পড়াশোনা করছেন মুশফিক! | ফেলে দেওয়া নবজাতক শিশুকে ড্রেন থেকে টেনে তুলে প্রাণ বাঁচালো কুকুর | ঠাকুরগাঁওয়ে ফেন্সিডিল সেবনের সময় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার | পদ্মায় গোসল করতে গিয়ে ভেসে গেল নবদম্পতি! | বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নারী হত্যার ঘটনায় আটক ৩ | বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নারী হত্যার ঘটনায় আটক ৩ | ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলার প্রস্তুতি | ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্যই প্রিয়া সাহা মিথ্যাচার করেছেন: পূর্তমন্ত্রী | নবীগঞ্জে কলেজছাত্রীকে উত্যক্ত করার অভিযোগে যুবকের ৬ মাসের কারাদন্ড |
  • আজ ৭ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হারানো পদ ফিরে পেতে মসজিদের খাদেমকে হত্যা! ভাঙা কবরে লাশ গুমের পরিকল্পনা

৪:৩৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুলাই ৯, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- আজিমপুর কবরস্থান জামে মসজিদের খাদেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন সাইফুল ইসলাম (৩৮)। তবে তার কাজে সন্তুষ্ট না হতে পেরে গত মে মাসে সাইফুলকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন কর্তৃপক্ষ। তার জায়গায় হানিফ শেখকে (৩০) প্রধান খাদেম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এদিকে, পদ হারিয়ে সহকারী খাদেম হয়ে পড়া সাইফুলকে প্রায়ই বিভিন্ন কাজের নির্দেশনা দিতেন হানিফ। সাইফুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগও করেছেন। এসব বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ হওয়া এবং নিজের পদ ফিরে পাওয়ার আশায় হানিফকে খুন করেন সাইফুল।

গত ২ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে খাদেম হানিফকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন সাইফুল ইসলাম। পরদিন ৩ জুলাই (বুধবার) মসজিদের দ্বিতীয় তলা থেকে হানিফের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সোমবার (০৮ জুলাই) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে সাইফুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো। যিনি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই দুপুরের খাবার শেষ করে প্রধান খাদেম হানিফ বিকেল ৪টার দিকে মসজিদের মেঝেতে ঘুমিয়ে পড়েন। ওই সময় কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে দরজা লাগিয়ে সাইফুল রান্নাঘরে রাখা চাকু নিয়ে হানিফের মুখ চেপে ধরে উপর্যুপরি বুকে, পেটে ও গলায় একাধিক আঘাত করেন। এতে হানিফের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বাইরে থেকে প্লাস্টিকের বস্তা ও পলিথিন নিয়ে আসেন এবং মরদেহ বস্তায় ঢুকিয়ে পলিথিন দিয়ে পেঁচিয়ে বেঁধে বেলকুনিতে একটি বাঁশের ঝুড়িতে রাখেন। বাথরুম থেকে বালতিতে করে পানি এনে তোশকের কভার ভিজিয়ে মেঝের রক্ত পরিষ্কার করেন।

ঠান্ডা মাথায় খুনের পর সাইফুল আসরের নামাজ পড়তে যান। নামাজ শেষে রক্তমাখা কাপড় বাথরুমে পরিষ্কার করেন। রাত ৯টার দিকে বাইরে খেতে গিয়ে রাত ১০টার দিকে রুমে ফিরে আসেন।

বাহাউদ্দিন (ঝাড়ুদার) ও ফরিদ (খাদেম) বাইরে থেকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে রুমে ফিরে এসে জানতে চান খাদেম হানিফ কোথায়। সাইফুল জানান, তিনি বাইরে গেছেন।

পরিকল্পনা ছিল গভীর রাতে প্রধান খাদেম হানিফের মরদেহ আজিমপুর কবরস্থানের যেকোনো ভাঙা কবরে ফেলে দেয়া হবে। কিন্তু খাদেম ফরিদ অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকায় সাইফুল সিদ্ধান্ত বদলান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি খাদেম ফরিদকে বলেন, তার বাবা মারা গেছে। এই বলে তিনি তার সব ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে চলে যান।

৩ জুলাই রাতে ক্লিনার বাহাউদ্দিন ও নতুন নিয়োগকৃত খাদেম ফরিদ নিহত খাদেম হানিফের কক্ষে ঘুমাতে যান। সেই সময় তারা দুর্গন্ধ পেয়ে পাশের বেলকোনির থাই গ্লাস টান দিয়ে একটি বাঁশের খালি ঝুড়ির মধ্যে পলিথিন দিয়ে পেঁচানো একটি বস্তা দেখতে পান। পরে সেটি খুলে তারা খাদেম হানিফের মরদেহ শনাক্ত করেন।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকালে ধানমন্ডিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদর দফতরে সংস্থাটির প্রধান বনজ কুমার মজুমদার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘হানিফ শেখকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সাইফুল। হত্যার পর সে প্রথমে নোয়াখালী তার গ্রামের বাড়িতে যায়। সেখানে তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এরপর সেখান থেকে চট্টগ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে এবং পরে চাচার বাসায় যায়। তবে কেউ তাকে রাখতে চায়নি। এরপর সে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে তার ফুফুর বাসায় যায়। সেখান থেকেই সোমবার তাকে গ্রেফতার করে পিবিআই।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে যাওয়ার পর সাইফুল সেলুনে গিয়ে নিজের চেহারা পরিবর্তনের চেষ্টা করে। সে পাঞ্জাবি ছেড়ে টি-শার্ট পরা শুরু করে। দাড়ি কামাতে সেলুনে যায়। তখন নরসুন্দর তাকে দাড়ি কামানোর কারণ জানতে চাইলে সাইফুল জানায়, তার স্কিনে সমস্যা, তাই সেভ করতে হবে। এই বলে সেভ করে চলে আসে।’

এ ঘটনায় লালবাগ থানা পুলিশ বাহারউদ্দিন, ফরিদউদ্দিন ও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করেছিল। তবে পিবিআই তাদের তদন্তে এদের কোনও সংশ্লিষ্টতা পায়নি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাইফুল একাই জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে পিবিআই।