সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পীরগঞ্জে’র জয়ন্তিপুর ঘাটের ব্রীজ নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে

৫:৩৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুলাই ৯, ২০১৯ দেশের খবর, রংপুর

আব্দুল করিম সরকার, পীরগঞ্জ (রংপুর) থেকে- রংপুরের পীরগঞ্জে জয়ন্তিপুর ঘাটে প্রধানমন্ত্রীর ২০১৩ সালের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কাজ ২০১৯ সালের ২২ ফ্রেব্রুয়ারী পীরগঞ্জ আসনের এমপি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ব্রীজ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর করেন।

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লী টুকুরিয়া ইউনিয়নের গোপিনাথপুর সড়কের জয়ন্তিপুর ঘাটে করতোয়া নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণ চলছে। পল্লী সড়কে গুরুত্বপুর্ণ সেতু নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ ব্রীজটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে এ কাজের তদারকি করছেন। এতে ৩০ কোটি ৩১ লাখ ১৪ হাজার ৭৭০ টাকা চুক্তিমুল্যে ২৯ কোটি ৪৮ লাখ ৯৪ হাজার ২০৩ প্রাক্কলিক মুল্য ধরা হয়েছে। চলতি বছরের প্রকৌশল প্রযুক্তি লিমিটেড (পিপিএল) কাশেম কনস্ট্রাকশন (কিউসি) জয়েন ভাইচার (জেভি) ৫২ সাত্তার ম্যানশন পঞ্চহালি চট্রগ্রাম ব্রীজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

উপজেলা প্রকৌশলি মজিবর রহমান জানান, জয়ন্তিপুর ঘাট-গোপিনাথপুর সড়কে ১৫০০ মিটার চেইনেজে জয়ন্তিপুর ঘাটে করতোয়া নদীর উপরে ২৯৪ মিটার দৈর্ঘ্য ৯.৮মিটার প্রস্থে ফুটপাতসহ এ ব্রীজের নিমার্ণ কাজ চলছে। এতে ৮০টি পাইল, ৭টি স্প্যান, ৬টি পিলার ও ২টি এবাটমেন্ট রয়েছে।

এছাড়াও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা সীমানায় ৩৮৭ মিটার ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা সীমানায় ৪৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। দ্রুত ব্রীজটি নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫৮টি পাইল, ৩টি পিলারের বেজ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে।

টুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মন্ডল জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রংপুরের বধুমাতা জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর তরফমৌজা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভায় জয়ন্তিপুর ঘাটে ব্রীজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়। এ ব্রীজ নির্মানের ফলে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ, বিরামপুর ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দাবী পুরণসহ দুর্ভোগ-ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় ব্যবসা বানিজ্যে উন্নতির প্রভাব পড়বে। এলাকার কৃষকদের কৃষিজাতপণ্য সহজে পরিবহনের ফলে নিকটতম হাট-কাজারে বিক্রিতে ন্যায্যমুল্য নিশ্চিত হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদ ইউনিয়নের বাসিন্দা সৈয়দপুর-মির্জাপুর মৌজার টিন মিস্ত্রি রফিকুলের ছেলে নুর ইসলাম, সত্তর বছরের বৃদ্ধা একই গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রহিম, দারিয়া হলাইজানা মৌজার আকবর আলীর ছেলে শরিফ উদ্দিন, পীরগঞ্জ উপজেলার জয়ন্তিপুরের তৈয়ব উদ্দিনের ছেলে শামীম, দেনতুল্লাহ’র ছেলে দেলদার, পেশায় জেলে একই গ্রামের স্বর্গীয় মহন্ত সরকারের ছেলে অনন্ত সরকার, নৌকা যোগে ঘাট পেরিয়ে নবাবগঞ্জগামী মোটরসাইকেল আরোহি ব্যবসায়ি ভেন্ডাবাড়ির আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ফিরোজ, ঘাটের যাত্রী চৌধুরী গোপালপুরের প্রিয়াংকা, মানষীসহ অনেকের সাথে কথা হলে জানান, পীরগঞ্জ-নবাবগঞ্জ-বিরাহিমপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আত্বীয়তা ও ব্যবসায়িক কাজের পরস্পুরক হিসেবে ঘাট পারাপারে কস্ট ভোগান্তিতে ভুগছে। ব্রীজ হলে যোগাযোগ সহজ হবে এবং রংপুর-দিনাজপুরের অঞ্চলের প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হবে।

প্রকল্পের এলজিইডি কনসালটেন্ট প্রকৌশলি হেমায়েত হোসেন ও রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলি রেজাউল হক জানান, বিগত বছরের ৪ জুন থেকে ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর ৯১৫দিনে নির্মাণ কাজ সমাপ্তির মেয়াদকাল রয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ চলমান থাকায় মেয়াদকালের অনেক আগেই এ সেতু দিয়ে জনসাধারণ চলাচলে উম্মুক্ত হবে আশা করছি। আবহাওয়া প্রতিকুলে গিয়ে নদীর পানি বিপদ সীমার উপরে উঠে গেলে সেক্ষেত্রে নির্মাণ কাজে বাধা আসলে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত কাজ সমাপ্তিতে অপেক্ষা করতে হতে পারে।

Loading...