ফেনী মডেল থানার সাবেক ওসি আজাদের বিরুদ্ধে এক ভূক্তভোগীর সংবাদ সন্মেলন

৯:১৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, জুলাই ১০, ২০১৯ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

ফেনী প্রতিনিধি:  ফেনী মডেল থানার সাবেক ওসি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সংবাদ সন্মেলন করেছেন আবুল বশর নামের ফেনী শহরের এক ব্যবসায়ী। এ ব্যবসায়ী ফেনী আলম মার্কেটের বশর ইলেকট্রিকের মালিক এবং ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াই গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে।

ব্যবসায়ী দাবী করেন, ফেনীর এস এস কে রোডের খন্দকার গলিতে তার কেনা ৪ শতাংশ মূল্যবান ভূসম্পত্তি হতে ০.২৪ শতাংশ ভুমি পার্শ্ববর্তী একই ঠিকানার আলাউদ্দিনের ছেলে নুরুল আলম ভূঞাঁ আত্মসাত করে নেয়ার ঘটনার শালিশ করে দেয়ার নামে ওসি আজাদ তাকে নানাভাবে হুমকি ধমকি সহ হয়রানি করেছে। ওসি আজাদ প্রতিপক্ষের সাথে বিশেষ স্বার্থের বিনিময়ে যোগসাজস করে মাত্র ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে ভূমি খেকো নুরুল আলমকে আত্মসাতকৃত ভুমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার জন্য পুলিশী মেজাজে বশরকে হুমকি দিয়ে চাপ দিতে থাকেন। এতে নিরপরাধ বশর অসহায়বোধ করে।

জানাগেছে, এ ভূমি আত্মসাতের বিষয়ে গত ৫ মার্চ তারিখে আবুল বশর ফেনী মডেল থানায় সাধারন ডায়রী নম্বর-২৫০ দায়ের করে। এতেই ভূক্তভোগী বশর পুলিশী ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে পড়ে। ওসি আজাদ বশরকে হুমকি ধমকি সহ হয়রানী করেছে এবং নানা অযৌক্তিক প্রশ্নবানে জর্জরিত করে। এসব পুলিশী অত্যাচার-আচরণে নিরপরাধ বশর নিজেকে অত্যান্ত অসহায়বোধ করতে থাকে। পরে ২২ মার্চ তারিখে ফেনী মডেল থানার ওসির পক্ষ থেকে একজন আমিন সার্ভেয়ার নিয়োগ দিলে আবার নালিশী সম্পত্তিটি পরিমাপ করা হয়। এতে আমিন সার্ভেয়ার আবুল কাশেম যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে ০.২২ শতাংশ ভূমি আত্মসাতের সত্যতা মিলেছে। কিন্তু তাতেও ওসি আজাদ ০.২২ শতাংশ আত্মসাতের কথা স্বীকার করেনি। সে মাত্র ০.১০ শতাংশ আত্মসাতের কথা বলেছে। সে প্রথমে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার ও পরে ৫ লক্ষ টাকার রায় ঘোষনা করেছে। এ টাকার ৩/১ অংশ ওসিকে দিতে বলা হয়েছে।

অথচ আবুল বশর দাবি করেছে এ ভূমি আত্মসাতের ঘটনায় তার ৮০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আবুল বশর এ রায় মানতে অস্বীকার করলে ওসি আজাদের ইন্দনে ভূমি খেকো নুরুল আলম পাল্টা বশরের বিরুদ্ধে মডেল থানায় জিডি করেছে। এতে পুলিশ এখনো বশরকে হুমকি দিচ্ছে ও রায় মানতে চাপ দিচ্ছে। এ ঘটনায় বশর ফেনীর পুলিশ সুপারের বরাবরে প্রধান মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, আইজিপি সহ সরকারের গুরুত্বপুর্ণ এজেন্সিগুলোতে অনুলিপি দিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছে।

বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত ২৯ জুলাই ২০০১ তারিখে বশর একই ঠিকানার জনৈক মৃত সফিকুল হক খন্দকার থেকে এ ৪ শতাংশ ভূমি কিনে নেয়। তার এই সম্পত্তিটি ছিল আয়তাকার বিশিষ্ট। অপর দিকে ভূমি খেকো নুরুল আলম ভূঞাঁর ৪.৬০ শতাংশ ভূমিটি ছিল তার ভূমির দুই পাশ ঘিরে “এল” সাইজ বিশিষ্ট ও উন্নয়ন অনুপযোগী। কোন রাস্তা ছিল না। এতে ধূর্ত নুরুল আলম বিগত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে সেটেলমেন্ট অফিসে ৩০ ধারার একটি আপত্তি দাখিল করে। এরপর সে কিছুটা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও ব্যক্তিগতভাবে অনুনয়-বিনয় করায় অত্যন্ত সরল বিশ্বাসে ও মানবিক কারনে বশর তার সাথে একমত পোষন করে। এতে নুরুল আলম ভূঞাঁ তার মূল মালিক নুর নাহার খন্দকারের সাথে বশরের এক অঙ্গিকারনামা সম্পাদন করিয়ে নেয়। এ নুরুল আলম ভুঁঞা তার সুবিধার্থে সরকারী আমিন সার্ভেয়ার নিয়োগ করিয়া মাপঝোপ দিয়ে বশরকে তার ‘ক’ প্লটের ০৩.৮৮ শতাংশ এবং বশরের দক্ষিণে নুরুল আলমের ৪.৬০ শতাংশ ‘খ’ প্লট নির্ধারন করিয়া দেয়। এতে প্রথমত: তার ভুমি “এল.সাইজ” এর পরিবর্তে “আই.সাইজ” হয়ে যায়। বশর তার ভুমির দক্ষিণ পার্শ্বে তাকে ছেড়ে দিয়ে সে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয় এবং তাকে চলাচলের জন্য পশ্চিম দিকে ৪ ফুট রাস্তা ছেড়ে দেয়। এবং বিনিময়ে সে বশরকে ০.১৩ শতক জায়গা ছেড়ে দেয়। এসব মিলিয়ে বশরের ‘ক’ প্লটের মোট ভুমির পরিমান ০৩.৮৮ শতক নির্ধারন করা হয়।

এরপর বিগত ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখে বশরের একমাত্র ছেলে আবিদুর রহমান বাপ্পি (১২) ছাদ থেকে পড়ে মারা যায়। এ ঘটনায় বশর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এ সুযোগে ধূর্ত নুরুল আলম ভূঞাঁ তার ভূমিতে ওই সময় দ্রুত ছয় তলা বিল্ডিং নির্মান করে নেয় এবং একই সাথে এর মধ্যে বশরের “ক” প্লটের ০.২৪ শতাংশ জায়গা এ বিল্ডিংয়ের সীমানায় অন্তরভূক্ত করে জবর দখল করে নেয়। এতে বশরের ৩.৮৮ শতক ভূমি ৩.৬৪ শতক হয়ে যায় এবং অনেকটা ব্যাকা-ত্যাড়া হয়ে উন্নয়নের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে বশরের ব্যাংক ঋণের ক্ষতি, ভূমির দাম কমে যাওয়ার ক্ষতি ও ভূমির মূল্য বাবদ মোট ৮০.৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে নুরুল আলম বলেন, আমার কাছে মাত্র .0১ শতাংশ জমি পাওনা রয়েছে।