• আজ মঙ্গলবার। গ্রীষ্মকাল, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ১১:০০মিঃ

কিশোরগঞ্জে গণধর্ষণের দায়ে চারজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

৯:৪০ পূর্বাহ্ন | বুধবার, জুলাই ১০, ২০১৯ ঢাকা

এ.এম. উবায়েদ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: করিমগঞ্জে শিশুকে ছিনিয়ে নিয়ে গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত চার ধর্ষক সুমন (২৮), ফারুক (৩০), রোমান মিয়া (২৬) ও হেলাল (৩২) কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১।

পাশাপাশি অপহরণের ঘটনায় অভিযুক্ত চার আসামিকে ১০ বছর করে কারাদন্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার অপর অভিযুক্ত নয়ন (৩২) কে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকালে আসামিদের উপস্থিতিতে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক কিরণ শংকর হালদার এই রায় ঘোষণা করেন। দন্ডিতদের মধ্যে রোমান আশুতিয়াপাড়া গ্রামেরই আবুল কাশেমের পুত্র, সুমন করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়া গ্রামের শহীদ মিয়ার পুত্র, ফারুক একই গ্রামের কান্দু মিয়ার পুত্র, এবং হেলাল একই গ্রামের সোনাফর মিয়ার পুত্র। অন্যদিকে খালাস পাওয়া নয়ন একই গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের পুত্র।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের গত ১১ই মে দিবাগত রাত ১টার দিকে করিমগঞ্জের আশুতিয়াপাড়া হাসান আলীর মোড়ে পার্শ্ববর্তী তাড়াইল উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের সিংধা করাতি গ্রামের ৪র্থ শ্রেণির ওই ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়। ওই সময় শিশুটির অসুস্থ মা’কে করিমগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি শেষে দুই স্বজন শিশুটিকে নিয়ে রিকশা ও ভাড়া করা মোটর সাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আশুতিয়াপাড়া হাসান আলীর মোড় এলাকায় আশুতিয়াপাড়া গ্রামের সুমন, ফারুক, রোমান এবং হেলাল রিকশা ও মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে তারা আরো ৪/৫ জনকে মোবাইল ফোনে ডেকে আনে। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ও পিটিয়ে ওই শিশুর স্বজনদের আহত করে শিশুটিকে তারা অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

পরে ওই রাতেই রামনগর শাহ আলীর মাজারের কাছ থেকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন ১২ই মে শিশুটির মাছ ব্যবসায়ী পিতা বাদী হয়ে সুমন, ফারুক, রোমান ও হেলালের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর ¯েপশাল পিপি অ্যাডভোকেট এম এ আফজল এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন মামলাটি পরিচালনা করেন।