এজলাসেই কাঁদতে কাঁদতে অচেতন হলেন নুসরাতের মা

৮:৪৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুলাই ১০, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: ফেনীর সোনাগাজী মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন নুসরাতের মা শিরীন আক্তার। সাক্ষ্য ও জেরা শেষে তিনি এজলাসে কাঁদতে কাঁদতে অচেতন হয়ে মেঝেতে পড়ে যান।

আদালতের কার্যক্রম শেষে সব আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার সাক্ষী নুসরাতের মা শিরীন আক্তার দুপুর ১২ থেকে আড়াইটা পর্যন্ত সাক্ষ্য ও জেরা প্রদান করেন। জেরা শেষে কাঁদতে কাঁদতে এজলাসে আসামির কাঁঠগড়ায় থাকা সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি ওস্তাদ। কী করে আমার মেয়ের সর্বনাশ করলেন?’

এর পরপর আসামির কাঁঠগড়ায় থাকা পপি ও মনিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তোমরা মেয়ে মানুষ, তোমরা নুসরাতের সহপাঠী হয়ে কী করে আমার মেয়েকে পুড়িয়ে মারলে?

কাঁদতে কাঁদতে এসব বলার সময় অচেতন হয়ে আদালতের মেঝেতে পড়ে যান শিরীন আক্তার। এ অবস্থায় বিচারকের নির্দেশে মহিলা পুলিশ, নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ও মহিলা আইনজীবীরা এজলাস থেকে বের করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

বুধবার সকালে ফেনী কারাগার থেকে অভিযোগপত্রভুক্ত ১৬ জন আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক (জেলা জজ পদমর্যাদার) মো. মামুনুর রসিদের আদালতে মামলার সাক্ষী নুসরাতের মা শিরীন আক্তারের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। আগামীকাল বেলা ১১টায় মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল খায়েরেরর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরার মধ্য দিয়ে আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে।

গত ২০ জুন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১৬ জন আসামির বিরুদ্ধে নুসরাত হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন করেন একই আদালতের বিচারক।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত পরীক্ষায় অংশ নিতে মাদ্রাসায় গেলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ডেকে কৌশলে মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে যায়। পরে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পাঁচ দিন পর ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নুসরাতের।

পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

এ মামলায় পিবিআই ও পুলিশ ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার দায় স্বীকারকারী পাঁচজনসহ মোট ১২ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।