দৌলতদিয়ায় নদী পারের অপেক্ষায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি

১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুলাই ১১, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

রাজবাড়ী প্রতিনিধি: দুর্ভোগ যেখানে পিছু ছাড়ে না তার নাম দৌলতদিয়া ঘাট। যে ঘাট শুধু নেওয়ার অপেক্ষায় থাকে। আর যা দেয় তা হলো সিমাহীন দুর্ভোগ। এমন দুর্ভোগ মেনেই দেশের দক্ষিাণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ চালাচল করে এক প্রকার বাধ্য হয়েই।

অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এ নৌ- রুটে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে সহস্রাধিক যানবাহন।

পদ্মা নদী পারের জন্য যাত্রীবাহী বাসগুলোকে সারা রাতই অপেক্ষা করতে হয়েছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে। আর গত দুই দিন ধরে অপেক্ষা করছে পণ্যবাহী ট্রাক গুলো।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি) বলছে নদীতে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ফেরি গুলোর স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। ফলে ঘাটে একটু বাড়তি যানবাহনের চাপ রয়েছে। প্রাকৃতিক আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে আজই ঘাট স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

সরেজমিন দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকালে দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দের পদ্মার মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার মহাসড়কে সহস্রাধিক যানবাহন নদী পারের জন্য অপেক্ষা করছে। পণ্যবাহী ট্রাকের পাশাপাশি যোগ হয়েছে যাত্রীবাহী বাসগুলো। ফলে বাসের যাত্রী ও চালকরা পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা সারা রাত জেগে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

মহাসড়কে ছাড়াও দৌলতদিয়া টার্মিনালে নদী পারের জন্য দুইদিন ধরে সেখানে অপেক্ষা করছে প্রায় দেড় শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক।

বুধবার (১০ জুলাই) বিকাল পর্যন্ত ঘাটে যাত্রীবাহী কোন বাসের যানজট না থাকলেও রাত থেকে বাসের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এখন তাদেরকেও ট্রাকের পাশাপাশি ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফেরির জন্য।

ঈগল পরিবহনের বাসযাত্রী আকাশ ছাড়া জানান, নদী পারের জন্য সারা রাত এই মহাসড়কেই কাটিয়েছি। এখনো ঘাট থেকে অনেক দূরে রয়েছি। কখন ফেরির দেখা মিলবে বুঝতে পারছিনা। সারা রাত জেগে ভীষণ অসুস্থবোধ করছি।

টার্মিনালে থাকা ট্রাক চালক মোঃ রিপন আলী শেখ জানান, দুইদিন ধরে ফেরির জন্য ঘাট এলাকায় অপেক্ষা করছি। একদিন কেটেছে সড়কে আরেকদিন কাটলো টার্মিনালে। মনে হচ্ছে আজো ফেরিতে উঠতে পারবোনা।

দৌলতদিয়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ট্রাফিক ইন্সেপেক্টর আবুল হোসেন জানান, ঘাট এলাকায় এখন যে যানবাহনগুলো নদী পারের জন্য অপেক্ষা করছে সেগুলো যাতে সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে পার হতে পারে সেজন্য আমরা কাজ করছি। আশা করছি সবাই একটু ধৈর্য্য ধরলে সবাই সুন্দর মতো নদী পার হতে পারবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, পদ্মায় স্রোতের বেগ তীব্র হওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ফেরিগুলোর নদী পার হতে বেশি সময় লাগছে। যার কারণে ঘাটে যানবাহনের একটু বাড়তি চাপ রয়েছে। তবে আমরা অগ্রাধীকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস ও পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে নদী পার করছি।

বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২০ টি ফেরির মধ্যে ১৫টি ফেরি যানবাহন পারাপারের জন্য চলাচল করছে।