বগুড়ার শেরপুরে পৌরসভা ১ম শ্রেণীর হলেও নাগরিক সুবিধা ৩য় শ্রেণীর

৩:০০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুলাই ১১, ২০১৯ দেশের খবর, রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি- বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের রাস্তাঘাট বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়। শেরপুর পৌরসভাটি বগুড়া জেলার ১ নম্বার পৌরসভা হলেও এখনো সেকেলেই রয়ে গেছে ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। নেই ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থান। তাই বৃষ্টি হলেই দেখা দেয় অকাল বন্যা। ঠোংগা দিয়ে নৌকা বানিয়ে ছোটাছুটি করতে হয় এদিক ওদিক। পানির সাথে মিশে যাচ্ছে ময়লা আবর্জনা ও শুকুরের মল। ড্রেনের সাথে মিশে যাচ্ছে পৌর নাগরিকের অপরিকল্পিত বিল্ডিয়ের পায়খানা।

এই পানি চলাচলরত নাগরিকের শরীরে লেগে যাওয়ায় মসজিদ, অফিস, দোকানপাট এবং শিক্ষার্থীরা যেতে পারছেনা স্কুলে। সামান্য বৃষ্টিতে এমন চিত্র নিত্যদিনে সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায় ২, ৩, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়র্ডের জনগণের। ভোগান্তি যেন কমছেই না এইসব ওয়ার্ডের ভূক্তভোগী নাগরিকদের।

জানা যায়, শেরপুর পৌরসভা বগুড়া জেলার এক নম্বর পৌরসভা হলেও পানি নিষ্কাশন বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে। আজো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এই পৌরসভায়। তাই তো একটুখানি বৃষ্টি হলেই রাস্তার উপরে উঠে হাটু পানি। এমন চিত্র দেখা গেছে পৌরসভার ২.৩, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়র্ডে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শেরপুর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায়, বর্ষার মৌসুমে সামান্য একটু বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে থাকলে রাস্তাগুলো সেই পানি দিয়ে পরিণত হয় বন্যায়। একই চিত্র দেখা যায় ৯ নং ওয়ার্ডে খন্দকার পাড়ার মাজার রোড এলাকায় ও ৭ নং ওয়ার্ডের হাসপাতাল রোড ক্লিনিক এলাকায় এবং ২ ও ৩ নং ওয়র্ডের কলেজ রোড থেকে সকাল বাজার হয়ে ফুলবাড়ি ব্রিজ পর্ষন্ত রাস্তা কাঁদা পানিতে একাকার হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে অথচ সমাধানের কোন উদ্দ্যেগ নেই। কিছু কিছু এলাকায় মাস্টারড্রেন হলেও নিয়ম না মেনে মাস্টার ড্রেন করায় কোন কাজেই আসছেনা সেই ড্রেন। এই সকল সমস্যা দিনদিন সমাধানের চাইতে আরো বিকট আকার ধারণ করছে। তাই ভোগান্তিও শেষ হচ্ছে না এই পৌরসভার জনগণের।

এ ব্যাপারে শেরশাহ নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুঞ্জুরুল আলম, ডক্টরস কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম পলাশ বলেন, আমরা ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে বেশকয়েকবার বলেছি মার্কেটের রাস্তায় পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করতে। এরপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর একটি পাইপ দিয়ে রাস্তার পশ্চিম পাশ থেকে পূর্ব পাশে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করলেও সেটি আর কোন কাজে আসছেনা।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্যাম বলেন, পৌরসভার সকল ওয়ার্ডের মধ্যে ৮নং ওয়ার্ড একটি ব্যস্ততম এলাকা। পৌরসভার উন্নয়নের জন্য মেয়রকে একাধিকবার অবগত করলেও তিনি বাজেটের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান হবে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপার্টের সামনে ময়লা-আবর্জনাগুলো নির্ধারিত স্থানেও ফেলছেনা। তাই এহেন পরিস্থিতির কিছুটা শিকার হতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মাস্টার ড্রেনের কাছ চলছে। ড্রেনের কাজ শেষ হলেই এই দুর্ভোগ আর থাকবেনা আশা করি। মাস্টার ড্রেনের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সকলকেই সহযোগিতা করতে হবে।

Loading...