সংবাদ শিরোনাম
প্রেমপত্র দিতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি! | মসজিদের বারান্দায় পড়াশোনা করছেন মুশফিক! | ফেলে দেওয়া নবজাতক শিশুকে ড্রেন থেকে টেনে তুলে প্রাণ বাঁচালো কুকুর | ঠাকুরগাঁওয়ে ফেন্সিডিল সেবনের সময় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার | পদ্মায় গোসল করতে গিয়ে ভেসে গেল নবদম্পতি! | বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নারী হত্যার ঘটনায় আটক ৩ | বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নারী হত্যার ঘটনায় আটক ৩ | ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলার প্রস্তুতি | ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্যই প্রিয়া সাহা মিথ্যাচার করেছেন: পূর্তমন্ত্রী | নবীগঞ্জে কলেজছাত্রীকে উত্যক্ত করার অভিযোগে যুবকের ৬ মাসের কারাদন্ড |
  • আজ ৭ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কাজ না করেই জুন ক্লোজিং এর নামে কোটালীপাড়ায় ৪ প্রকল্পের টাকা উত্তোলন!

৫:৩৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুলাই ১১, ২০১৯ ঢাকা

এইচ এম মেহেদী হাসানাত,ষ্টাফ রিপোর্টার,গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জুন ক্লোজিং এর নামে ৪ টি প্রকল্পের কাজ না করেই ৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। জুলাই মাসের ১১ দিন অতিক্রান্ত হলেও এসব প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু হয়নি। কোটালীপাড়া উপজেলার মৎস্য বিভাগের ৩ টি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের ১টি প্রকল্প থেকে ৩০ জুনের আগেই এসব টাকা উত্তোলন করা হয়।

উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের মৎস্য অভয়াশ্রম প্রকল্পে সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বর বিপ্লব চক্রবর্ত্তীকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয়। প্রাণিসম্পদ অফিসের ক্ষুরারোগে ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন প্রকল্পটি পিঞ্জুরী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সোনাখালী ও তারাইল গ্রামে বাস্তায়িত হওয়ার কথা। কিন্তু এ প্রকল্পে ওই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বর ইলিয়াছ খানকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে ২/১ দিরে মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা বলেছেন। তবে এসব কাজ ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা ছিলো।

কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ কার্যালয় জানিয়েছে, গত অর্থ বছরের জুনের মাঝামাঝিতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার পিঞ্জুরী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে চাইটখালী খালে মৎস্য অভয়াশ্রম নির্মাণ, সাদুল্লাহপুর ইউয়িনের লাটেঙ্গা বিলে কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত, আমতলী ইউনিয়নের সিকির বাজার  মৎস্য অভয়াশ্রম সংস্কার ও পিঞ্জুরী ইউনিয়নের সোনাখালী তারাইল গ্রামে গরু মোটাতাজা করণ এবং  ক্ষুরারোগে ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন প্রকল্প গ্রহন করা হয়। প্রতিটি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২ লক্ষ টাকা।

আমতলী ইউনিয়নের সিকির বাজার সংলগ্ন আমতলী গ্রামের মোঃ কবির হোসেন (৩৭) জানান, জুনে সিকির বাজার মৎস্য অভয়াশ্রমে কোন সংস্কার কাজ হয়নি। তাই অভয়াশ্রমটি কচুরিপানায় ভরে রয়েছে। এখানে মাছের প্রজননের কোন পরিবেশ নেই।

একই গ্রামের নাঈম শেখ (৩০)  জানান,গত ২০১৮ সালে এ অভয়াশ্রমে কচুরি পানা পরিস্কার, বাঁশ পোতা ও গাছের ডাল ফেলা হয়। পাশাপাশি অভয়াশ্রম সংস্কার করে মাছের উপযুক্ত পরিবেশ সৃস্টি করা হয়। কিন্তু এ বছর এখনো অভয়াশ্রমে কোন কাজ হয়নি। তাই অযতœ আর অবহেলায় অভয়াশ্রমটি পড়ে রয়েছে। এতে অভয়াশ্রমের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।

পিঞ্জুরী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড মেম্বর নির্মল বিশ্বাস বলেন, সোনাখালী ও তারাইল গ্রামে এখনো গরুর ক্ষুরা রোগের ভ্যাক্সিনেশন করা হয়নি। ২/১ দিনের মধ্যে এটি করা হবে বলে পশু ডাক্তার জানিয়েছেন।

আমতলী সিকির বাজার মৎস্য অভয়াশ্রমের প্রকল্প সভাপতি বিপ্লব চক্রবর্ত্তী টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি সাদুল্লাহপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ড সদস্য আমাকে আমতলী ইউনিয়নের সিকির বাজার মৎস্য অভয়াশ্রমের প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে। আমি একদিন প্রকল্প এলাকা দেখতে গিয়েছি। অন্যদিন সেখানে বাঁশসহ মালামাল নিয়েছি। এ অভয়াশ্রমের সংস্কার কাজ শুরু করেই ২/১ দিনের মধ্যে শেষ করে ফেলবো।

আমতলী ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান হান্নান শেখ বলেন, আমার ইউনিয়নের অভয়াশ্রম প্রকল্প সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে আমি উপজেলা পরিষদের সদস্য। এ ৪টি প্রকল্পের উপজেলা পরিষদের সভায় আমিসহ ১৩ জন সদস্য স্বাক্ষর করেনি। সদস্যদের স্বাক্ষর ছাড়া কিভাবে প্রকল্প পাশ হলো তা আমার বোধগম্য নয়।

ক্ষুরারোগে ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন প্রকল্পের সভাপতি ইলিয়াস খান বলেন,  ৩০ জুনের আগেই টাকা উত্তোলন করেছি। ভ্যাক্সিন কিনতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। ২/১ দিনের মধ্যেই আমরা ভ্যাক্সিনেশন শুরু করবো।

কোটালীপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পলাশ কুমার দাশ বলেন, আমরা ৫০ হাজার টাকা পেয়েছি। দ্রুতই এ টাকা দিয়ে ভ্যাক্সিন কিনে আমরা ভ্যাক্সিনেশনের কাজ শুরু করব।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম মাহফুজুর রহমান টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, কোন কোন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। কোন কোন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে। টাকা উত্তোলনের জন্য পৃথক কমিটি রয়েছে। তারাই এ টাকা উত্তোলন করেছেন।