ক‌লেজছাত্রী ধ‌র্ষণ মামলায় মেয়রপু‌ত্রের জা‌মিন বা‌তিল

৮:২৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুলাই ১১, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

নয়ন দাস, শরীয়তপুর: শরীয়তপু‌রের জা‌জিরায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতারের ৮ দিন পর জামিনে মুক্তি পাওয়া জাজিরা পৌরসভার মেয়র ইউনুছ ব্যাপারীর ছেলে মাসুদ ব্যাপারী (৩১) আবার কারাগা‌রে পা‌ঠি‌য়ে‌ছে আদালত।

বুধবার আদালতে হা‌জির হলে এ নি‌র্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে ৮ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ আদাল‌তে দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মরিয়ম মুন মঞ্জুরী জামিন মঞ্জুর করে আসামিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার আদেশ দেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, গেল ২৯ জুন জাজিরা উপজেলা সদরের একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৩০ জুন মামলা হয় জা‌জিরা পৌর মেয়রপুত্র মাসুদ ব্যাপারীর বিরুদ্ধে। পরে গত ১ জুলাই আদালতের মাধ্যমে মাসুদ ব্যাপারীকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ৭ জুলাই শরীয়তপুর জেলা আমলি আদালতে তার জামিনের আবেদন করা হয় ।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাসুদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন জামিন ও রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী জয়নব আক্তার ইতি পরদিন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিসআপিল করেন। তিনি ওই দিনই আরেক আবেদনে আসামির জামিন প্রার্থনা করেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মরিয়ম মুন মঞ্জুরী জামিন মঞ্জুর করে আসামিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার আদেশ দেন। এই মু‌ক্তির প্রতিবা‌দে ফু‌সে উ‌ঠেছে বি‌ভিন্ন সংগঠন। তারা নানান কর্মসূ‌চি দি‌য়ে‌ ই‌তোম‌ধ্যে বিচার‌কের প্রত্যহারসহ আসামীর শা‌স্তির নি‌শ্চি‌তের দাবী জা‌নি‌য়ে‌ছে।

এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলায়েত হোসেন বলেন, কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের যাতে কোনো ক্ষতি কেউ করতে না পারে পুলিশ তা নিশ্চিত করবে।

সাম্প্র‌তিক দেশব্যাপী হঠাৎ বেড়ে গেছে ধর্ষণের ঘটনা। ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশু ও বৃদ্ধারাও। এমনকি রেহাই পাচ্ছেন না বাকপ্রতিবন্ধী বা ভবঘুরে পাগলও। অপসংস্কৃতি, আকাশ সংস্কৃতি, অশ্লীলতা’সহ নানা কারণে দিনে দিনে সামাজিক অবক্ষয় আর অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে নারী ধর্ষণ। পাশাপাশি ক‌ঠোর বিচা‌রের দাবী উ‌ঠে‌ছে সারা‌দেশ ব্যা‌পি। পু‌লিশ প্রশাস‌নের পক্ষ থে‌কেও নেওয়া হ‌চ্ছে আইনআনুক ব্যবস্থা।