৫০০ কোটি ডলার জরিমানার মুখে ফেসবুক

১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, জুলাই ১৩, ২০১৯ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক- যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করার দায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট ফেসবুককে ৫০০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো টেক জায়ান্টকে এটাই সর্বোচ্চ জরিমানা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) এই বিষয়টির তদন্ত করছে। ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার হয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে রাজনৈতিক কাজে ব্যাবহারের জন্য জন্য ৮৭ মিলিয়ন ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলোয় বলা হচ্ছে, বিষয়টি এফটিসিতে ৩–২ ভোটে অনুমোদন পেয়েছে। ফেসবুক ও এফটিসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির সূত্র ধরে ২০১৮ সালের মার্চে ফেসবুকের বিরুদ্ধে তদন্তে নামে এফটিসি। গত বছরে ফেসবুক থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা নির্বাচনে প্রচারের কাজে লাগানোর অভিযোগ ওঠে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাটি ‘কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

এফটিসির তদন্তের মূলে ছিল ২০১১ সালে ফেসবুকের করা চুক্তি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা যাচাই করা। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবহারকারীর কোনো তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করতে হলে ব্যবহারকারীকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে তার অনুমতি নিতে হবে।

গতকাল শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে একটি সূত্র বলেছে, ফেসবুককে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার জরিমানার বিষয়টি এফটিসি অনুমোদন দিয়েছে। অন্যান্য গণমাধ্যমেও একই কথা বলা হচ্ছে।

অবশ্য এফটিসির ধার্য করা জরিমানার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সিভিল ডিভিশনে চূড়ান্ত হবে। জরিমানার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগবে, তা জানা নেই।

এর আগে ফেসবুকের পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক জরিমানার বিষয়ে আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল। এফটিসির এ জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলে এটি হবে কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি জরিমানার রেকর্ড।

কিভাবে তথ্য চুরি করেছিল ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকা?

ফেসবুকর মাধ্যমে ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকা ব্যবহারকারীদের একটি মানসিক দক্ষতার গেম খেলতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। ব্যক্তিত্ব গবেষণার সেসব তথ্য ব্যবহার করা হয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনি ক্যাম্পেইনে। ওই পদ্ধতিতে শুধু যে খেলাটি খেলছে কেবল তার নয়, এমনকি তার বন্ধুতালিকায় থাকা অন্যান্যদেরও তথ্য বেহাত করা হয়। ২০১৮ সালে এই ঘটনায় ফাঁস হলে ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকা বন্ধ হয়ে যায়। ফেসবুক কর্তৃপক্ষও নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চায়।

ফেসবুককে এত অর্থ জরিমানা করায় কে কি ভাবছে?

জরিমানায় অর্থের অংকটা অনেক বড় দেখালেও ডেমোক্র্যাট আইনজীবীরা এই শাস্তিকে ‘অপর্যাপ্ত’ হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার জোর দিয়েছেন ফেসবুকের মৌলিক পরিবর্তন আনার ওপর। কারণ তথ্য সুরক্ষায় পুনরায় গাফিলতি করতে পারে ফেসবুক।

এদিকে ফেসবুকে বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর হলো, জরিমানার খবর চাউর হওয়ায় ফেসবুকের শেয়ারের দাম কমেনি বরং বেড়েছে শতকরা ১ দশমিক ৮ ভাগ।

Loading...