বন্যায় ভেঙ্গে গেলো একমাত্র পাকাসড়কটি!

৭:৩৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুলাই ১৩, ২০১৯ রংপুর

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বন্যার পানির প্রবল স্রোতে গড্ডিমারী টু বড়খাতা শহরগামী একমাত্র পাঁকাসড়কটি ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ক্ষতি হয়েছে হাজার হাজার হেক্টর আবাদি জমির ফসল, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। বাস্তু হারা হয়েছে কয়েশত পরিবার।

শনিবার দুপুরে জেলার হাতীবান্ধার গড্ডিমারী মেডিকেল মোড় এলাকায়ে তিস্তার পানিতে একমাত্র পাঁকা সড়কটি ভেঙ্গে গেছে। এতে হাতীবান্ধা শহরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

শনিবার সন্ধযায় তিস্তার পানি প্রবাহ দোয়ানি পয়েন্টে বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা রাতে ছিলো ৫০ সেন্টিমিটা।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, শুক্রবার সন্ধা থেকে তিস্তা ভয়ংকর রুপ ধারন করায় তিস্তা ব্যারেজ এলাকা ও ফাট বাইপাসের উজানে পানি উন্নয়ন বোর্ড রেড এলার্ট জারী ও মাইকিং করা হয়েছে। বর্তমানে তিস্তার পানি কমতে শুরু করছে।

এলাকাবাসী জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধি হওয়ার ফলে সবচেয়ে বেশি তিগ্রস্ত হয়েছে গড্ডিমারী ইউনিয়নের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। পানি নিচে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি।

এছাড়াও হাতীবান্ধা থেকে বড়খাতার বাইপাস সড়কের তালেব মোড় ও মেডিকেল মোড়ে পাকা সড়ক টি প্রায় ৫ শত মিটার ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকার লোকজনের সঙ্গে উপজেলা শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ভাঙনের ফলে এর মধ্যেই ওই এলাকার ৩০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ইউনিয়নটির চারপাশের রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যাওয়ায় এলাকার লোকজনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যার পানি হাতীবান্ধা শহরসহ লোকালয়ে প্রবেশ করায় জেলার লাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি, বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিস্তা পাড়ের লোকজন নিজ নিজ অবস্থান থেকে বালু বস্তা দিয়ে পানি আটকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও বস্তার সংকটে তা সম্ভব হয়ে উঠছে না।

এদিকে, পানির শো শো শব্দে তিস্তা পাড়ের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিস্তা নদীর ভয়ঙ্কর রূপ আর গর্জনে পানি বন্দি লোকজনের চোখে ঘুম নেই। অন্যদিকে ৬ দিন ধরে রান্না করতে না পারায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে ভুগছেন তারা। জেলার প্রায় ৩০ হাজার পরিবার এখন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। পরিবার গুলোর মাঝে এখনও কোন শুকনো খাবার পরিবার গুলোর মাঝে পৌছায়নি। পরিবার গুলো মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

গড্ডিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান জানান, গত ৩ দিন ধরে এই ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েয়ে। ইতোমধ্যে সড়ক ভেঙ্গে হাতীবান্ধার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তার পানি ধিরে ধিরে কমতে শুরু করছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, উপজেলা গড্ডিমারী ইউনিয়নের ভেঙ্গে যাওয়া সড়কটি পরিদর্শন করেছি। মেরামতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। বন্যার্ত পরিবার গুলোর মাঝে শুকনো খাবাররে ব্যবস্থা করা হয়েছে।