একই ভুল করে আবারও বিতর্কিত নোবেল

১০:৪২ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, জুলাই ১৫, ২০১৯ বিনোদন

বিনোদন ডেস্ক- এটাই প্রথম না, আগেও দুবার ভুল করেছিলেন মাঈনুল আহসান নোবেল। অনুমতি ছাড়া তিনি সুরকার প্রিন্স মাহমুদের লেখা ও সুরারোপিত গান গেয়েছেন। অনুষ্ঠান প্রচারে উচ্চারণ করেননি মূল সুরকার ও গীতিকারের নাম।

বাণিজ্যিকভাবে টেলিভিশনে ব্যবহারের পর ইউটিউবেও আপলোড হয়েছে সেই গান। এ কারণে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন নোবেল। এরপর অবশ্য ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছিলেন।

পরিতাপের বিষয়, এর পরও নিজেকে শুধরে নেননি নোবেল। একই ভুল করে চলছেন। ‘সারেগামাপা’তে প্রিন্স মাহমুদের কথা ও সুরের তিনটি গান গেয়েছেন। ‘বাবা’, ‘মা’ এবং ‘এত কষ্ট কেন ভালবাসায়’। তিনবারের একবারও গীতিকার বা সুরকার হিসেবে প্রিন্স মাহমুদের নাম উচ্চারণ করেননি তিনি।

সারাগামাপা’র ৬ নম্বর স্থানে যাওয়ার জন্য গত শনিবারের পর্বে নোবেল গাইলেন হাসানের গাওয়া সর্বাধিক জনপ্রিয় গান ‘এতো কষ্ট কেন ভালোবাসায়…’ কিন্তু এই গানকে নোবেল কলকাতার সে মঞ্চে বললেন টুলু-হাসানের ব্যান্ডের গান। অর্থাৎ এটি নাকি আর্ক ব্যান্ডের গান। আদতে সেটা নয়। গানটির কথা ও সুর প্রিন্স মাহমুদের। ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া শেষ দেখা অ্যালবামের গান এটি। যেখানে হাসানের এই গানসহ প্রত্যকেটি গান ছিল জনপ্রিয়, ছিল বললে ভুল হবে এখনও শ্রোতাপ্রিয় গানগুলো।

বিষয়টি প্রিন্স মাহমুদের নজরে আসার পরে একটি স্ট্যাটাসে প্রিন্স মাহমুদ লিখেছেন, “দুঃখিত, এতো কষ্ট কেন ভালবাসায় আর্ক ব্যান্ডের গান না। এটা ১৯৯৮ সালে রিলিজ হওয়া আমার কথা ও সুরে মিক্সড অ্যালবাম ‘শেষ দেখা’তে হাসান গেয়েছিল।”

প্রিন্স মাহমুদের এই স্ট্যাটাসে কমেন্ট করেছেন সংগীতাঙ্গনের অনেকেই। এত বড় একটা প্ল্যাটফর্মে গাইতে গিয়ে বারবার একই ভুল করায় নোবেলের কঠোর সমালোচনা করেছেন কেউ কেউ। কেউ বলছেন তার এই ভুল ইচ্ছাকৃত। নোবেলকে ধূর্ত বলেও সমালোচনা করেছেন কেউ কেউ।

এক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, ‘অন্য কারো গান কাভার করার সময় সেই গানের গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীর নাম-সঠিকভাবে বলা উচিত। এই চর্চাটা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। শিল্পীদের নাম বললেও অধিকাংশ শিল্পীই গান কাভার করার সময় গীতিকার ও সুরকারের নাম উল্লেখ করেন না। এটা ঠিক নয়। নোবেলকে শুধরানো উচিত, তার পাশাপাশি আরও যারা এমনটা করেন তাদেরও শুধরানো উচিত।’

সংগীতের এক ভক্ত বলেন, জেমস, আইয়ুব বাচ্চু, প্রিন্স মাহমুদ, হাসান সবাই হতে পারে না। কাজেই সীমা লঙ্ঘন করো না। প্রকৃতি সীমা লঙ্ঘনকারীকে সহ্য করেনা।

বাংলাদেশের কপিরাইট রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘অনুমতি ছাড়া এ ধরনের ব্যবহার কপিরাইট আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। বিশ্বের যেকোনো দেশেই এটা মেনে চলা হয়। আমাদের কপিরাইট আইনেও একই বিধান আছে। যেকোনো গান সুরকার ও গীতিকারের সম্পদ। কেউ তাঁদের অনুমতি ছাড়া গানের বাণিজ্যিক ব্যবহার করলে তা আইনের লঙ্ঘন হবে।’

Loading...