সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যমুনার পানি বিপদ সীমার ৯০ সেন্টিমিটার উপরে: ৬৫হাজার মানুষ পানি বন্দি

১০:৪০ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, জুলাই ১৫, ২০১৯ ময়মনসিংহ

আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি :  টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে জামালপুরের যমুনা তীরবর্তী এলাকায় দ্রুত গতিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। যমুনা নদীতে গতকাল রবিবার বিকালে বন্যার পানি বিপদ সীমার ৯০সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৩৭সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ পাঠক আব্দুল মান্নান জানান, জামালপুরের ইসলামপুরে বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে রবিবার বিকাল যমুনা নদীতে বন্যার পানি বিপদ সীমার ৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৩৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যমুনায় দ্রুত গতিতে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার ইসলামপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী এলাকায় ক্রমেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়ে ৬৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এবং ৫২টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

গতকাল রবিবার সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, যমুনা থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও গত তিনদিনের টানা বর্ষণে জামালপুরের যমুনা তীরবর্তী এলাকায় দ্রুত গতিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। বন্যার পানিতে ইতিমধ্যেই ইসলামপুরের চিনাডুলি,বেলগাছা,সাপধরী,পাথর্শী ও কুলকান্দী ইউনিয়ন সমূহের বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়ে ৬৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।

সাপধরী ইউপি’র চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, যমুনার মধ্যবর্তী দুর্গম আকন্দ পাড়া,পশ্চিম চেঙ্গানিয়া,পূর্ব চেঙ্গানিয়া,  ও কাশাড়ীডোবার চরাঞ্চলে বন্যার পানি হুহু করে বাড়ছে। রবিবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যেই এসব চরাঞ্চলের অন্তত: ৭ হাজার বাড়ি ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়াও যমুনার চরাঞ্চলে ক্রমেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

চিনাডুলী ইউপি’র চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম জানান, যমুনার প্রবল চাপে শনিবার রাতে চিনাডুলী ইউনিয়নের বাবনা-খলিশা কুড়ি সড়ক, পশ্চিম চিনাডুলী-উলিয়া বাজার সড়ক ভেঙ্গে খলিশাকুড়ি,দেলীপাড়,বাবনা, বিরে মারা, পশ্চিম বাবনা, পূর্ব বাবনা,সিংভাঙ্গা, পশ্চিম চিনাডুলী, পূর্ব চিনাডুলী ও দক্ষিণ চিনাডুলীসহ নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যার পানি প্রবল চাপে চিনাডুলী দেওয়ানপাড়া লুতফর,বাচ্চু,মতি ও বেলালসহ ১৭টি পরিবারের বসত ভিটা ও বাড়িঘর ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গন অব্যাহত আছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: কামরুজ্জামান জানান,“পশ্চিমাঞ্চালে ৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠায় হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠিান গুলো বন্ধ রয়েছে”।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানান, বন্যা মোকাবেলায় আমাদের সকল প্রস্ততি রয়েছে। ইতিমধ্যে বন্যা আক্রান্ত বেলগাছা,চিনাডুলী ও সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদে ২০মেঃটন চাল ও ২০০প্যাকেট করে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।  উপজেলা দূর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের তত্বাবধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ত্রান সামগ্রীতে ১০ কেজি মিনিকেট চাল,২কেজি চিড়া,১কেজি চিনি,১লিটার তৈল, ১কেজি মুসুরের ডাল,১কেজি আয়োডিন যুক্ত লবন ও ৫শ গ্রাম নুডলুস রয়েছে। মোট সাড়ে ১৬ কেজি করে জন প্রতি এসব সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

Loading...