• আজ ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বেসরকারি চাকরিজীবীরাও ফ্ল্যাট পাবে: প্রধানমন্ত্রী

৩:৪৩ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুলাই ১৫, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, তাতে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীসহ বস্তিবাসীরাও ফ্লাটে বসবাস করার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহছাড়া থাকবে না। প্রতিটি মানুষ ঘর পাবে, জমি পাবে।

সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এসময় তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় গণপূর্ত অধিদফতরের ৪টি এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ৩টিসহ মোট ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় ঢাকার যানজট কমানোসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই উন্নয়নটা শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না। আমরা একেবারে প্রত্যেকটি মহানগর জেলা, উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ফসলি জমি রক্ষা করতে হবে। বাচ্চাদের খেলার মাঠ রাখতে হবে। চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আবার আবাসন সুবিধা গড়ে তুলতে হবে। শুধু টাকা হলেই যে যেখানে একখানা বিল্ডিং বানাবে বা কোথাও একটা ইন্ড্রাস্ট্রি বানাবে সেটা আমরা করতে দিতে চাই না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি আমরা বেসরকারি মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য ফ্ল্যাট প্রকল্প করেছি। উত্তরা, ভাষানটেক, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা জড়িত। তারা যেন মনোযোগ দিয়ে ভালোভাবে কাজ করতে পারে, আবাসন নিয়ে যাতে তাদের চিন্তা করতে না হয়, সে কারণে এ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তিনি বলেন, বস্তিবাসীরা যে ভাড়া দিয়ে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় জীবনযাপন করে, সে তুলনায় ভাড়া অনেক বেশি। অমরা তাদের জন্যও আবাসনের পরিকল্পনা নিয়েছি। তারা দিনের ভাড়া, সাপ্তাহিক ভাড়া, এমনকি মাসের ভাড়া পরিশোধ করে সেখানে উন্নত পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।

বর্তমানে সরকারি ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের জন্য চমৎকার ফ্ল্যাট তৈরি করে দিচ্ছে সরকার। এ ফ্ল্যাটগুলো নিজের সম্পদ মনে করে ব্যবহার করবেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন। পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খরচের বেলায় সাবধানী হবেন। কোনোক্রমেই এসবের অপচয় করবেন না। আপনাদের যে দামে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস দেয়া হয়, তার চেয়ে খরচ অনেক বেশি পড়ে। যে ব্যয়ভার সরকার বহন করে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে জলাধার সংরক্ষণ করে প্রকল্প নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতা একটা বিরাট সমস্যা। যখন প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসি, সচিবালয়ে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হল। সেই পানি যাওয়ার জায়গা নেই। কারণটা হল ঢাকা শহরে যতগুলি খাল ছিল অধিকাংশ খাল কিন্তু ভরাট করে ফেলা হয়েছে অথবা সেখানে বক্স কালভার্ট করা হয়েছে। এক-একজন মিলিটারি ডিটেকটর যখন ক্ষমতায় আসে, তারা দুইটি কাজ করে। একটা হল জলাশয় ভরাট করা অথবা বক্স কালভার্ট আর গাছ কাটা। এই ঢাকা শহরে একসময় প্রত্যেকটা আইল্যান্ডে গাছ ছিল। ফুলে ভরা থাকত। সেগুলো একেক জন একেকবার এসে কেটে ফেলেছে। মতিঝিলে বিশাল ঝিল ছিল, ওই ঝিল আমরা নৌকায় পাড়ি দিয়েছি। কিন্তু সেই ঝিল নামে কিন্তু ঝিলের কোন অস্তিত্ব নাই।’

তাই আমাদের দেশের আবহাওয়া জলবায়ুর কথা চিন্তা করে জলাশয়গুলি ভরাট করা চলবে না বলে জানান তিনি। ফ্ল্যাট বা ঘরবাড়ি নির্মাণের সময় পরিবেশগভাবে ও স্বাস্থ্যগত দিকগুলোর দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ারদের অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী।

Loading...