সংবাদ শিরোনাম
বিশ্বজিৎ হত্যার ৭ বছর আজ: দণ্ডিতরা সবাই প্রকাশ্যে , কিন্তু কাউকেই খুঁজে পায় না পুলিশ! | গফরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩ | ধানের সঠিক মূল্য না পেয়ে এবার আগাম আলু চাষের সিদ্ধান্ত কৃষকদের | এবছরও বেগম রোকেয়ার কবরে ফুল দেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না! | পটুয়াখালী হানাদার মুক্ত দিবস স্মরণে আলোর মিছিল | টাঙ্গাইলে প্রেমিকার দেয়া এসিডে ঝলসে গেল প্রেমিক | পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় গাছের সাথে বেঁধে ২ শিশু নির্যাতন : গ্রেফতার ২ | হিলিতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ট্যাবলেট জব্দ | স্কুলে পরীক্ষা বন্ধ রেখে আ.লীগের সম্মেলনে গেলেন শিক্ষকরা! | প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সালমান-ক্যাটরিনা |
  • আজ ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যমুনা ভাঙনে শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা বিধবা ফিরোজা

১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

মোল্লা তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি- শেষ সম্বল টুকু হারিয়ে দিশেহারা টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলার কষ্টাপাড়া গ্রামের বিধবা ফিরোজা বেওয়া।

স্বামীসহ দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে সংসার চলছিল তার। স্বামী রোশনালী ভ্যান চালাতেন। কিন্তু কয়েক মাস আগে স্বামী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সংসারে এক মাত্র উপার্জনক্ষম ভ্যান চালক স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে ফিরোজা বেওয়ার। এরমধ্যে যমুনার করাল গ্রাসের স্বীকার হয়েছেন ফিরোজা বেগম। শেষ সম্বল হিসেবে বাড়ির ৮ শতাংশ জায়গার মধ্যে একটি কুড়ে ঘর ছিল।

সে ঘরটিওগত ২০ দিনের যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এতে চরম বিপদে পড়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বর্তমানে সে কোথায় আশ্রয় নিবে সেটিও জানা নেই তার।

কষ্টাপাড়ার ফিরোজা বেওয়ার মত অনেক ফিরোজা বেগমেরই এমন করুন দশায় জীবন যাপন করছে নদীর পাড়ে খোলা আকাশের নিচে।

এই উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া ও খানুরবাড়ি এলাকায় তীব্র ভাঙনে তিন শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এছাড়া গাবসারা ও অর্জুনা ইউনিয়নের বলরামপুর, তারাই, চর তারাই এলাকার ফসলী জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

যদিও ভাঙনরোধে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেইনি টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে দেড় কিলোমিটার ভাঙনের মধ্যে মাত্র ৭৫ মিটার এলাকায় ভাঙনরোধে ৫০ লাখ টাকার ব্যায়ে কাজ শুরু করেছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দাবী ছোট ছোট আকারে প্রকল্প পাস করতে হচ্ছে। কারন বড় প্রকল্প দিলে সেগুলো পাস হয় না। তাই ভাঙনরোধে কাজ ধীরগতি হচ্ছে।

এদিকে সোমবার (১৫ জুলাই) যমুনা নদী ভুঞাপুর অংশে পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে তিনটি গ্রামে বন্যা থেকে রক্ষার জন্য সোমবার রাতে গ্রামবাসী যমুনা নদী পাড়ে মাটি ও বস্তা ফেলেছে। তবে ভাঙনের কবলে গৃহহারা মানুষদের সহায়তায় সরকারি বা বেসরকারি কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

ভুঞাপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ জানান, যমুনা নদীর গোবিন্দাসীর তিন গ্রামে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গৃহহারাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীর ভুঞাপুর অংশে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে। নতুন করে আরো ৭৫ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু হবে।

Loading...