• আজ ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রূপপুরে বালিশকাণ্ডে ৩৬ কোটি টাকার বেশি লুটপাটের প্রমাণ

১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দু’টি কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন দু’টিতে রূপপুর বালিশকাণ্ডের ঘটনার পর ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার টাকার গরমিল পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বাড়তি অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনারও সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

এ ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি। সোমবার (১৫ জুলাই) প্রতিবেদন দু’টি জমা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারটি ভবনের আসবাবপত্র ও ইলেকট্রিক সরঞ্জাম সরবরাহ কাজের চুক্তি মূল্য ১১৩ কোটি ৬২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। অথচ মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে ৭৭ কোটি ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার। অর্থাৎ চুক্তি মূল্য সরবরাহ করা মালামালের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার টাকা বেশি। তাই এই বাড়তি পরিশোধিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রিপোর্টে আলাচিত বালিশকাণ্ডের নায়ক পাবনা গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনের ওপর আগামী রোববার (২১ জুলাই) হাইকোর্টে শুনানি হতে পারে।

এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রতিবেদনটির বিস্তারিত দেখব। প্রতিবেদন সঠিক হলে, এর ভিত্তিতে টাকাগুলো যেভাবে ফেরত আনা যায়, সেভাবে আনার নির্দেশনা চাইব। আর যদি দেখি আরও তদন্ত করা দরকার, তাহলে আদালতের কাছে আরও তদন্তের আদেশ চাইব।’

এর আগে গত মে মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের আবাসিক প্রকল্পে বালিশ কিনতে খরচ হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর একটি বালিশ ফ্যাটে তুলতে খরচ হয়েছে ৭৬০ টাকা। এমন সংবাদ প্রচারের পর ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ২০ তলায় একটি বালিশ তুলতে ৭৬০ টাকার সেই খরচ হতবাক করে সবাইকে। এ ঘটনায় গত ১৯ মে স্বাধীন ওবিচারিক তদন্ত চেয়ে রিট করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

এ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২০ মে নির্মাণাধীন ভবনে আসবাবপত্র ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র তোলার অস্বাভাবিক খরচ তদন্তে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন চেয়ে রিটের শুনানিও স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রাখেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এ ঘটনার তদন্তে দুটি কমিটি করা হয়েছে এবং শিগগিরই এর প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে জানানো হলে ওই আদেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু প্রতিবেদন না পেয়ে হাইকোর্ট এক পর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরে গত ২ জুলাই হাইকোর্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনে আসবাবপত্র বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে কেনা ও উত্তোলনের ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকোশলী, রাজশাহী অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে বালিশকাণ্ডের এ ঘটনার তদন্তে গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল এবং প্রতিবেদন অনুসারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেটা দুই সপ্তাহের মধ্যে জানাতে রাষ্ট্রপকে নির্দেশ দেওয়া হয়।