সংবাদ শিরোনাম
বিশ্বজিৎ হত্যার ৭ বছর আজ: দণ্ডিতরা সবাই প্রকাশ্যে , কিন্তু কাউকেই খুঁজে পায় না পুলিশ! | গফরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩ | ধানের সঠিক মূল্য না পেয়ে এবার আগাম আলু চাষের সিদ্ধান্ত কৃষকদের | এবছরও বেগম রোকেয়ার কবরে ফুল দেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না! | পটুয়াখালী হানাদার মুক্ত দিবস স্মরণে আলোর মিছিল | টাঙ্গাইলে প্রেমিকার দেয়া এসিডে ঝলসে গেল প্রেমিক | পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় গাছের সাথে বেঁধে ২ শিশু নির্যাতন : গ্রেফতার ২ | হিলিতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ট্যাবলেট জব্দ | স্কুলে পরীক্ষা বন্ধ রেখে আ.লীগের সম্মেলনে গেলেন শিক্ষকরা! | প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সালমান-ক্যাটরিনা |
  • আজ ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

 সিলেটে এইচএসসির পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা

৮:০৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুলাই ১৭, ২০১৯ শিক্ষাঙ্গন

আবুল হোমেন, সিলেট: সিলেটে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এবার পাসের হারে ছেলেদের থেকে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে মেয়েদের পেছনে ফেলে ছেলেরা এগিয়ে রয়েছে। আর সবক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে রয়েছে। এবার সিলেটে শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সাতটি। বুধবার প্রকাশিত ফলাফল শিট বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে মেয়েদের পাসের হার ৬৮.৮৩ শতাংশ এবং ছেলেদের পাসের হার ৬৪.৯১ শতাংশ। এছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৪৪ জন ছেলে এবং মেয়েদের মধ্যে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে ৪৫০ জন। মোট ১ হাজার ৯৪ জন জিপিএ- ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করেছে ৯৪৪ জন শিক্ষার্থী।

বুধবার প্রকাশিত ফলাফলে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের হিসাব অনুযায়ী- এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট ৭৬ হাজার ৫২১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। যার মধ্যে ৩৪ হাজার ৬৪৯ জন ছেলে। যেখানে পাস করেছে ২৪ হাজার ৪৯০ জন।

এছাড়াও ৪১ হাজার ৬০২ জন মেয়ে এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। যেখানে পাস করেছে ২৮ হাজার ৬৩৪ জন। মোট শিক্ষার্থীদের পাসের হারে এবার এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।

এদিকে পাসের হারে মেয়েদের থেকে পিছিয়ে গেলেও এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে মেয়েদের পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে ছেলেরা। সিলেট শিক্ষাবোর্ডে এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৯৪ জন। এর মধ্যে ৬৪৪ জন ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং মেয়েদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫০ জন। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে।  সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৭৬ হাজার ৮৯৮ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৫১ হাজার ১২৪ জন। পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করেছে মানবিক বিভাগ থেকে, আর সবচেয়ে কম অংশগ্রহণ করেছে ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে। তবে সবচেয়ে বেশি পাসের হার বিজ্ঞান বিভাগের। এ বিভাগের পাসের হার ৮৮ দশমিক ৮১ শতাংশ।

অন্যদিকে জিপিএ-৫ও সবচেয়ে বেশি পেয়েছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগের ৯৪৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ৫৭৭ জন ছেলে এবং ৩৬৭ জন মেয়ে শিক্ষার্থী এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর সবচেয়ে কম জিপিএ-৫ পেয়েছে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীরা। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯ জন। এর মধ্যে ৩৬ জন ছেলে ২৩ জন মেয়ে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯১ জন। এর মধ্যে ৩১ জন ছেলে শিক্ষার্থী এবং ৬০ জন মেয়ে। সবমিলিয়ে এ বিভাগে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ১ হাজার ৯৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছেলে ৬৪৪ জন ছেলে এবং ৪৫০ জন মেয়ে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে সর্বমোট পরীক্ষার্থী ছিল ১২ হাজার ৬৮৮ জন, ছেলে ৬ হাজার ৫৮৮ এবং মেয়ে ৬ হাজার ১০০ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ হাজার ১৮৫ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫ হাজার ৭৯৯ জন ছেলে ও ৫ হাজার ৩৮৬ জন মেয়ে শিক্ষার্থী। শতকরা হিসেবে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৮ দশমিক ৮১ শতাংশ।

মানবিক বিভাগে ৫২ হাজার ৯৪ জন শিক্ষার্থী সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছে। এ বিভাগে ছেলেদের থেকে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। ৩০ হাজার ৬০৫ জন মেয়ে শিক্ষার্থীর বিপরীতে ছেলে শিক্ষার্থী ২১ হাজার ৪৮৯ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩১ হাজার ১৫৯ জন। এর মধ্যে ছেলে ১১ হাজার ৮৩৫ জন আর মেয়ে ১৯ হাজার ৩২৪ জন। শতকরা হিসেবে মানবিক বিভাগে পাশের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছে ১২ হাজার ১১৬ জন। এর মধ্যে ছেলে ৬ হাজার ৮৭৪ জন এবং ৫ হাজার ২৪২ জন মেয়ে শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯২৪ জন মেয়ে শিক্ষার্থী এবং ৪ হাজার ৮৫৬ জন ছেলে। শতকরা হিসেবে এ বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ।

এবার এইচএসসি পরীক্ষায় সিলেটে শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সাতটি। অন্যদিকে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠান একটিও নেই।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ২০১৮ সালে শুধুমাত্র ২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি।

এদিকে গত ৫ বছরের মধ্যে ২০১৪ সালে ১০টি, ২০১৫ সালে ১৩টি, ২০১৬ সালে ৫টি, ২০১৭ সালে ৮টি এবং ২০১৮ সালে ১০টি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ছিল শতভাগ।

Loading...