আত্রাইয়ে বাঁধ ভাঙ্গার আশঙ্কা, পানিবন্দি শত শত পরিবার

২:০২ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯ রাজশাহী
BO NNA

নাজমুল হক নাহিদ, নওগাঁ প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও একটানা লাগাতার বর্ষণের ফলে নওগাঁর আত্রাইয়ের ছোট যমুনার পানি যেমন বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নওগাঁ-আত্রাই আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়ায় বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। এখন প্রতিটি মুহুর্তে উপজেলার প্রতিটি মানুষের মাঝে বিরাজ করছে বাঁধ ভাঙ্গার আতঙ্ক। এমন আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটছে উপজেহলার কয়েকটি গ্রামের লাখ লাখ মানুষ।

এখনও পর্যন্ত যেভাবে নদীর পানি বাড়ছে তাতে যে কোন মুহুর্তে উপজেলার রসুলপুর, মির্জাপুর, মদনডাঙ্গা, পাঁচুপুর, মধুগুরনইসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভাঙ্গার আশঙ্কা করছে উপজেলার সচেতন মহল। বাঁধ রক্ষায় নদী পারের গ্রামগুলোর শত শত মানুষ অনিদ্রায় রাত কাটাচ্ছেন। এদিকে বাঁধ গুলোকে রক্ষা করা না গেলে উপজেলার হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে বলেও মনেকরছেন তারা।

উপজেলাবাসীর অভিযোগ যেহেতু প্রতি বছরই আমাদের উপজেলায় বন্যায় শত শত ঘরবাড়ি, হাজার হাজার হেক্টর আবাদি জমির ফসল, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। পানি বন্দি হয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষ। বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষ উপজেলার বেঁড়িবাধ গুলো সংস্কার করে না। বাঁধগুলো সংস্কার করলে আজ হয়তো বাঁধ ভাঙ্গার অতঙ্কে নিদ্রাহীন রাত কাটাতে হতো না এমনটিই অভিযোগ তাদের।

ইতোমধ্যে আত্রাই ছোট যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে উপজেলার ফুলবাড়ি, রাইপুর, মিরাপুর, উদনপৈয়, পশ্চিম মিরাপুর, জাতোপাড়া, রসুলপুরসহ বেশ কয়েকটা গ্রামের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিশেষ করে বন্যাদুর্গত পরিবার গুলো গবাদী প্রাণি ও শিশু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। তাদের এখন বিশুদ্ধ খাবার পানি, জরুরী মেডিসিন এবং গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী গ্রামের খন্দকার জিতু আহম্মেদ জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও একটানা লাগাতার বর্ষণের ফলে নওগাঁর আত্রাইয়ের ছোট যমুনার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আমাদের গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোর শতশত পরিবার পনিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। কোমলমতি শিশুরা স্কুলেও যেতে পারছেনা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছানাইল ইসলাম জানান, আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতিটি এলাকায় মাইকিং ও মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। আতঙ্কের কোন কারণ নেই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ উপজেলা প্রসাশন তদারকি করছে। এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ টিকিয়ে রাখতে সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। ঝুঁকি মোকাবেলা করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এমনকি পুরো বাঁধ সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। বালুর বস্তা এবং জিওব্যাগ দিয়ে পানি চোয়ানো বন্ধে কাজ করা হচ্ছে।