সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইরানের ভেবে নিজেদের ড্রোনেই হামলা করলো যুক্তরাষ্ট্র!

২:২৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯ আন্তর্জাতিক
HAMLA

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই দাবি করেছেন।

তবে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানা গেছে, ইরানের কোনো ড্রোন খোয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভুল করে নিজেদের ড্রোন গুলি করে ধ্বংস করে দিতে পারে।

শুক্রবার এক টুইটে আব্বাস আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালী কিংবা অন্য কোথাও আমাদের কোনো ড্রোন খোয়া যায়নি। আমার শঙ্কা, ইউএসএস বক্সার ভুলে নিজেদের ইউএএস ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করতে পারে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে ঢোকার পর যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌযানকে হুমকি দেয়া হলে ইরানের একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি এমন ঘোষণা দেয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

পারস্য উপসাগরে একের পর এক মারাত্মক ঘটনার পর এই প্রথম সামরিক সংঘাতে জড়াল ওয়াশিংটন। ট্রাম্প বলেন, ইউএসএস বক্সার জাহাজ ইরানি ড্রোনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ সেটি জাহাজ ও ক্রুদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছিল।

তিনি বলেন, বক্সারের এক হাজার ইয়ার্ডের মধ্যে চলে আসার পর সেটিকে গুলি করা হয়। ড্রোনটি তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।

‘আন্তর্জাতিক জলপথে নৌযান পরিচালনায় ইরানের বহু উসকানিমূলক ও বৈরী পদক্ষেপের মধ্যে এটি ছিল একটি,’ বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, আমাদের স্থাপনা, স্বার্থ ও সেনাদের নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। স্বাধীন নৌযান পরিচালনা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যিক স্বাধীনতা ব্যাহত করতে ইরানের চেষ্টার নিন্দা জানাতে বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তবে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ সাংবাদিকদের বলেন, আজ ড্রোন হারানোর কোনো খবর তিনি পাননি।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করতে বর্তমানে তিনি সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে রয়েছেন।

তেহরান একটি বিদেশি তেল ট্যাংকার জব্দের দাবি করার পর এই প্রকাশ্য সংঘাত দেখা দিল। এর আগে পানামার পতাকাবাহী নৌযান রিয়াহ ও তার ১২ ক্রুকে আটকের দাবি জানিয়েছে ইরান। ট্যাংকারটি তেল পাচার করছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

বিপ্লবী গার্ডবাহিনীর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ইরানি নৌকা থেকে অন্য অঞ্চলের বিদেশি জাহাজে নিষিদ্ধ তেল সরবরাহ করছিল ওই ট্যাংকারটি।

পারস্য উপসাগরে কয়েক দফা গুরুতর হামলার পর মার্কিন জাহাজ থেকে এই ড্রোন গুলি করার খবর আসলো।

পেন্টাগন জানিয়েছে, হরমুজ উপকূলে চলাচলের সময় উড়ে আসা একটি ড্রোনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ইউএসএস বক্সার।

পেন্টাগনের মুখপাত্র কমান্ডার রেবেকা রেবারিচ বলেন, আমাদের মূল্যায়ন বলছে, ড্রোনটি ছিল ইরানি।