সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে আড়িয়াল খাঁর ভাঙ্গন, দিশেহারা নদী পাড়ের মানুষ

৮:১৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯ ঢাকা

হারুন-অর-রশীদ,ফরিদপুর প্রতিনিধি: বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙ্গন, এতে দিশেহারা হয়ে পরেছে নদী পাড়ের মানুষ।

স্থানীয়দের শঙ্কা দ্রুত নদী শাসনে স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ইউনিয়নের বেশগুলো গ্রাম এ বর্ষায়ই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

চর মানাইর ইউনিয়নের জাজিরা কান্দি ভাঙন কবলিত গ্রামের গৃহবধু কুলসুম বিবি(৬০)পৈত্রিক ভিটা নদী গর্ভে হারিয়েছেন এর আগেও। নতুন করে গড়া ভিটেতেও গত বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গন শুরু হয়, এবছর নদীতে নিযে যাচ্ছে সব। ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে বাড়ি ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন তিনি। চাষাবাদের জমিসহ ভিটে মাটি হারিয়ে অন্যের জমিতে কোন রকম পরিবার পরিজনসহ আশ্রয় নিয়েছেন কুলসুম বিবির মত অনেকেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বছর চরমানাইর ইউনিয়নের আমির খাঁর কান্দি, জাজিরা কান্দি, চরবন্দরখোলা ফাজিল মাদ্রাসা, কাজী কান্দি, আদেল উদ্দিন মোল্যার কান্দি গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত নদের ভাঙনে প্রায় দুই হাজার বিঘা ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও প্রায় ১১টি পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে অন্যত্র চলে গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরমানাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী জানান, এ বছর বর্ষার শুরুতেই নদীর পানি বৃদ্ধি হওয়ার কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধের জন্য কিছু এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ ও চরবন্দরখোলা মাদ্রাসা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীতে তীব্র স্রোত ও মৌসুমের শুরুতেই ঝড়ো হাওয়ার কারণে নদীতে বড় বড় ঢেউ এর সৃষ্টি হচ্ছে, আর সেই ঢেউ পাড়ে আছরে পরেই ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু এহসান মিয়া জানান, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর মাঝে সরকারী ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূরবী গোলদার সাংবাদিকদের জানান, নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে প্রাথমিক ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে, ভাঙ্গন প্রতিরোধ ও ক্ষতিগ্রস্থদের স্থায়ী সহায়তা প্রদানের চেষ্টা চলছে।