সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ৫০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দী, ডুবছে সড়ক, ক্ষেতের ফসল

৯:২০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯ ঢাকা

হারুন-অর-রশীদ,ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, দ্রুত গতিতে জেলার নিম্নাঞ্চল গুলোতে ঢুকে পড়ছে বন্যার পানি। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রীরচর,নর্থচ্যালেন,আলীয়াবাদ, চরমাধবদিয়া ও ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা।
ফলে দূর্ভোগে পতিত হয়েছে এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ। প্রতি মিনিটে মিনিটে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। পদ্মা নদীর পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে বর্তমানে বিপদসীমার ৫৪ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বন্যার পানি বাড়ায় এ জেলার চারটি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন।
গোয়ালন্দ পয়েন্টের গেজ রিডার ইদ্রিস আলী সাংবাদিকদের জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ওই পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আরও ২০ সেমি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় ওই পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার (৯ দশমিক ১৯) ৫৪ সে. মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে । ফরিদপুরের বন্যা কবলিত এলাকাবাসী জানায়, আগামী দুই দিন এই গতিতে পানি বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আাকার ধারন করবে।
সদর উপজেলার ডিক্রীরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু জানান,তার ইউনিয়নের প্রায় ৮০ ভাগ এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। নতুন করে পূর্বডাঙ্গী,মুন্সিডাঙ্গী ও ব্যাপারী ডাঙ্গীতে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ক্ষেতের ফসল ও গবাদিপশু নিয়ে মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে।
সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম ওমর ফারুক ডাবলু জানান,তার ইউনিয়নে পদ্মা নদী সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত গতিতে বন্যার পানি ঢুকে পরায় ইউনিয়নের সাদীপুর,গদাধরডাঙ্গী ও আলিয়াবাদ এলাকায় প্রায় পাচঁ শতাধীক পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।
সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মির্জা সাইফুল আজম জানান,তার ইউনিয়নের ৭ নং ওর্য়াডের বাঘেরটিলার প্রধান সড়কটি বন্যার পানির তোরে ভেসে যাওয়ায় ঐ এলাকার প্রতিটি বাড়ীতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে ফলে কয়েকশত মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।
সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজনু জানান,তার ইউনিয়নের দূর্গাপুর, জমাদ্দারডাঙ্গী ও বগেরটিলা এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পরায় প্রায় ৫০টি পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান মোস্তাক জানান,শুক্রবার তার ইউনিয়নে ৬ ইঞ্চি পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক শত বাড়ীঘর, মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন।
বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের কাইমদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামে কালুর বাজার থেকে পান্নুর দোকান পর্যন্ত সোয়া কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পাকা সড়কে এক কিলোমিটার অংশ তলিয়ে গেছে। এছাড়া মনসুরাবাদ এলাকায় মনসুরাবদ মোড় থেকে রিয়াজউদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত ইট বিছানো সড়কটির অর্ধ কিলোমিটার তলিয়ে গেছে।
মোস্তাকুজ্জমান আরও বলেন, হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিয়নের চর নটাখোলা, কবিরপুর, নর্থ চ্যানেল ও ৪২৩৮ দাগ গ্রামের ৩৪০ একর আউশ ধান পাট ও ভুট্টো পানিতে তরিয়ে গেছে।
ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ইউনিয়নের কাইমুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী, পরান বিশ্বাসের ডাঙ্গী, আয়জদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী ও শুকুর আলীর ডাঙ্গী গ্রামের সাড়ে তিন’শ পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।
ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কাইমদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ওই এলাকার যোগযোগের একমাত্র কালুর বাজার থেকে পান্নুর দোকন পর্যন্ত সোয়া কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে পাকা সড়কে এক কিলোমিটার অংশ তলিয়ে গেছে। তার মধ্যে দিয়েই শিক্ষার্থী ও পথচারীরা চলাচল করছে।
কাইমদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের স্কুল ছাত্রী আয়শা পারভীর রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় যাতায়াতের সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, যেভাবে পদ্মার পানি বাড়ছে তাতে আগামীকাল শনিবার থেকে স্কুলে যেতে পারবো কি না বলতে পারছি না। পানিতে ¯্রােতও অনেক বেশি ।
একই এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ মাজেদা বেগম (৫৩) বলেন, দুই-তিন দিনের পানি বেড়ে যাওয়ায় ছোট ছেলে- মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। এখন যাদের নৌকা নাই তারাতো বাজারেরও যেতে পারছে না।
জেলা ত্রাণ ও পুণর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী ভাঙ্গনের শিকার হযেছে সদরপুর উপজেলার ৪৫ এবং ভাঙ্গা উপজেলার ১৪টি পরিবার। তাদের বসত ভিটা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেরা প্রশাসক (সার্বিক) রোকসানা রহমান সাংবাদিকদের জানান, ফরিদপুর এখনও বন্যা কবলিত জেলায় পরিণত হয়নি। তবে পানি বাড়ায় এ জেলার চারটি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৫০ গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, দুর্গতদের সাহায্যের জন্য ফরিদপুর সদর ও সদরপুরে ১৫ মেট্রিক টন করে, চরভদ্রাসনে ১০ মে.টন এবং ভাঙ্গায় ২ মে.টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ওই চার উপজেলার সরকল সরকারি কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, বন্যার সময় আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়াও সংশ্লিষ্ট স্কুল ও মাদ্রাসা গুলো খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন এনামুল হক বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য ফরিদপুর জেলায় মোট ৯২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।