মাদরাসা ছাত্রী মেয়েকে মুখ চেপে ধরত মা, ধর্ষণ করত বাবা!

৮:২৪ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, জুলাই ২০, ২০১৯ অপরাধ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- খাগড়াছড়ির রামগড়ে ৮ম শ্রেণীর এক মাদরাসার ছাত্রী তার পিতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছে। আর মেয়েকে ধর্ষণ করতে স্বামীকে সহযোগিতা করত মেয়েটির মা। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার খাগড়াবিলের নোয়াপাড়া গ্রামে।

স্থানীয়রা বৃহস্পতিবার রাতে মা-মেয়েকে থানায় নিয়ে গেলে পুলিশের কাছে বাবার যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দেয় ওই ছাত্রী। এ সময় সে জানায় ধর্ষণ করতে বাবাকে সহযোগিতা করত তারই মা।

এ বর্বরোচিত ঘটনায় গতকাল শুক্রবার (১৯ জুলাই) রামগড় থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলায় বাবা মা দুজনকে আসামি করা হয়। ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে পুলিশ মেয়েটির মা মনোয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। পিতারূপী ঐ নরপশু গা ঢাকা দিয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্রী অভিযোগ করে বলে, তার দিনমজুর পিতা আবুল কাশেম(৪৩) গত ২ জুলাই রাতে জোরপূর্বক প্রথমবার তাকে ধর্ষণ করে। ঐদিন গভীর রাতে তার শোয়ার ঘরে এসে ধর্ষণ করতে চাইলে সে তার বাবার হাত পা ধরে ক্ষমা চায়। অনেক কাকুতি-মিনতি করলেও ধর্ষণের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেনি অসহায় মেয়েটি। জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় তাকে। একইভাবে আরো ২-৩ রাত ধর্ষণের শিকার হয় সে।

সর্বশেষ গত ১২ জুলাই গভীর রাতে তার শোয়ার ঘরে ধর্ষণ করতে গেলে সে তার বাবাকে বলে কাল মাদরাসায় আমার কোরআন মজিদ পরীক্ষা। আমার সাথে খারাপ কাজ করবেন না। আমার সাথে এভাবে খারাপ কাজ না করে বিষ খাইয়ে আমাকে মেরে ফেলেন। তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি মেয়েটির। বাবার হাতে আবারো ধর্ষণের শিকার হয় সে। আর ধর্ষণের কথা প্রকাশ করলে গলাটিপে হত্যা করে লাশ বস্তায়ভরে মাটিতে পুঁতে ফেলার ভয়ভীতি দেখায় তার বাবা।

মেয়েটি জানায়, বাড়িতে একটি ঘরে তার মা-বাবা থাকে, আর পাশের ঘরে সে তার ছোট ভাইবোনদের নিয়ে থাকে। গভীর রাতে ওদের কক্ষে এসে তার বাবা তাকে ধর্ষণ করতো।

মেয়েটি আরো জানায়, তার মাও এ ঘটনা জানে। ধর্ষণের কাজে মাও তার বাবাকে সাহায্য করতো। সে চিৎকার চেঁচামেচি করতে চাইলে মা তার মুখ চেপে ধরত। ১২ জুলাই সর্বশেষ ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরের দিন ঘটনাটি তার দাদীকে বলে। কিন্তু দাদীর কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে ১৪ জুলাই তার চাচা ওমর ফারুককে জানায়।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বৃহস্পতিবার মেয়েটির চাচার কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর তারা মেয়ের মুখে অভিযোগটি শোনেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেয়ে ও তার মাকে থানায় নিয়ে আসেন তারা।

রামগড় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মনির হোসেন বলেন, মেয়ে ও তার মাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মেয়েটি একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছে এবং তার মাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এদিকে গতকাল শুক্রবার রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. ফরহাদ ভিকটিম ও তার মাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। মনির হোসেন বলেন, মায়ের সহায়তায় বাবার হাতে মেয়ের ধর্ষিত হওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন।

তিনি জানান, শুক্রবার বিকালে ভিকটিমের চাচা ওমর ফারুক বাদি হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় মেয়ের বাবা আবুল কাশেমকে প্রধান আসামী এবং মা মনোয়ারা বেগমকে ধর্ষণের সহযোগী হিসেবে দুই নম্বর আসামি করা হয়। পুলিশ মনোয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। ধর্ষক পিতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।