• আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যশোরে জাল দলিলে জমি আত্মসাত করার অভিযোগ জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে

৫:১৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুলাই ২০, ২০১৯ খুলনা
jossor

মহসিন মিলন, বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলায় জাল দলিল করে অন্যের জমি আত্মসাত করার অভিযোগ  উঠেছে একটি জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে। ভূয়া মালিক সেজে অন্যের রেকর্ড করা  সম্পত্তি সাবরেজিস্ট্রারের সহযোগীতায় রেজিট্রি করিয়ে নেয়া হয়।

অভিযোগ বলা হয়, যশোরের শার্শার জে, এল, নং ৬৫, মৌজা কেরালখালী গ্রামের মোঃ আব্দুল গফফার মন্ডল, (পিতা মৃত, গোলাম রব্বানী মন্ডল, মাতাঃ মৃত, শুকজান বিবি)’র আর, এস, রেকর্ড, খতিয়ান নং ৮৩ খতিয়ান ভূক্ত জমির মালিক হচ্ছেন ১। আব্দুল গফফার মন্ডল,পিতা-গোলাম রব্বানী মন্ডল মৃত, ২) শুকজান বিবি (মাতা, মৃত ১৯৯৩), ৩। জাহানারা, জং আকবর আলী, সাং শার্শা, ৪। আতোয়ারা খাতুন, জং মসলেম আলী, সাং মাঙ্কে। উক্ত রেকর্ডে জমির দাগ মোট ১৫টি। আর, এস, চুড়াšত দাগ নং ২০২২, ২০২৫, ২০২৬, ২০৩০, ২০৭৫, ২০৮৬, ২০৯১, ২১০৩, ২১১৫, ২১১৮, ২১২০, ২১৩২, ২৩৪৫, ২৫১৪ এবং ২৫১৫ দাগে মোট জমির পরিমান ২ একর ৩৯ শতক। কিন্তু ঐ রেকর্ডের ১৫টি দাগের মধ্যথেকে ২০২৫, ২০৯১, ২১০৩, ২১১৫, ২১১৮, ২১৩২, ২৩৪৫, ২৫১৪ এবং ২৫১৫ মোট ০৯টি দাগে ২০৫ শতক জমি উল্লেখ করে ০৭ শতক জমি ১। জয়নাল ২। তরিকুল ৩। হাবিবুর, পিতা মৃত, আব্দুল কাদের, ৪। আব্দুর রহিম, ৫। মাছুম বিল্লাহ, ৬। ফেরদৌসি, ৭। রেবেকা, ৮। মাছুরা, পিতা, মৃত, আব্দুর রউফ সাং কেরালখালী, গত ১৪-০১-২০১৯ তারিখে শার্শা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে স্বর বানু জং বাকি বিল্লার নামে হস্তান্তরের দলিল করে। দলিল নম্বর ৪৬৪ তারিখ-১৪/০১/২০১৯,  ৯। দলিল লেখক-সনাক্তকারী, আসাদুজ্জামান, লাইসেন্স নং-১২৭, পিতা, মৃত, নূরুল হক, সাং কেরালখালী, স্বাক্ষী, ১০।  তাইজুল হক, পিতা মৃত, অফেল উদ্দীন, সাং কেরালখালী। অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে জমির মালিক আব্দুল গফফার মন্ডল (ওরফে আব্দুস সালাম গফফার) উক্ত রেজেস্ট্রি দলিলের নকল সার্টিফাইড কপি উঠিয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত শার্শা, যশোর-এ দলিল সৃষ্টিকারি আসামীদের বিরুদ্ধে গত ৩১/০১/২০১৯ তারিখে  জালিয়াতি মামলা দায়ের করেন।

যার মামলা নং সিআর-২৭/১৯। মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ বিষয়ে তদন্তের  দায়িত্ব দেন পি,বি,আই যশোরকে। দীর্ঘ কালক্ষেপণ শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান তদন্তের নামে মোটা অংকের উতকোচের বিনিময়ে আসামীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জমির রেকর্ড বা কাগজপত্র না যাচাই বাছাই না করে আসামিদের পক্ষেমিথ্যা ভিত্তিহীন রিপোর্ট বা প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যা বাদী আব্দুল গফফার ইতোমধ্যে নারাজি পিটিশন দিয়ে উক্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। পাশা পাশি নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের আবেদন জানালে বিজ্ঞ আদালত ইতোমধ্যে তদন্তের নিমিত্তে শার্শা সাব রেজিস্ট্রারের উপর দায়িত্ব অপর্ণ করেছেন।

আসামীগণ জমি দখলে ভয় ভীতি নানারকম হুমকি ধামকির অভিযোগ এনে যশোর বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/৪৫ ধারায় মামলা করলে বিজ্ঞ আদালত উক্ত বিষয়ে তদন্তের ভার দেয় শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে। তিনি দায়িত্ব দেন দেন গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির আই,সি খায়রুল আলমকে। খায়রুল আলম দীর্ঘকাল ক্ষেপণ করে আসামীদের কাছ থেকে মোটা উৎকোচের বিনিময়ে প্রভাবিত ‘হয়ে ক্রয় সূত্রে মালিক’ বলে রিপোর্ট দেন বলে অভিযোগ বাদী পক্ষের। ভূয়া দাতা, ভূয়া দলিল ভূয়া মালিক বলে আসামীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে যান।

ইতোমধ্যে বাদী জমির মালিক আব্দুল গফফার বিজ্ঞ আদালতের কাছে নারাজী পিটিশন দাখিল করেছেন পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন করেছেন। উল্লেখ থাকে যে, ১৪৪/৪৫ ধারা মামলা দায়েরের পর আসামী পক্ষের মদদে বাদীর উক্ত ০৭ শতক জমিতে জোরপূর্বক মাটি ফেলার চেষ্টা করলে বাদী খায়রুল আলমকে মোবাইল ফোনে জানায়। তার পর মাটি ফেলা বন্দ হয়ে যায়। তবে এখানেই থেমে যায়নি আসামী পক্ষ, তারা প্রভাবশালী হওয়ায় বর্তমানে নানা ভাবে বাদীকে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রকাশ থাকে যে, বাদী আব্দুল গফফার, ওরফে আব্দুস সালাম গফফার, শার্শা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সারসা বার্তার সম্পাদক-প্রকাশক এবং কেরালখালী পাড়িয়ারঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক।

Loading...